আগাম বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রীমঙ্গলের চা–বাগান

রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

 

উপজেলা প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)।।

প্রায় তিন মাস আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন চা–বাগানে চা–গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু হয়। শীত মৌসুমের শুরুতে এই ছাঁটাই কার্যক্রমের পর বাগানগুলোতে সাধারণত রুক্ষ ও শুষ্ক পরিবেশ দেখা দেয়। চা–গাছে নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজানোর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানে কৃত্রিমভাবে সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল।

এ অবস্থায় হঠাৎ আগাম বৃষ্টিপাত চা–বাগানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা–গাছে দেখা দিয়েছে নতুন পাতা ও কুঁড়ি। পাশাপাশি ধুলাবালি ধুয়ে গিয়ে বাগানগুলো আবারও সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির কারণে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও অনেকটা রক্ষা পাচ্ছে চা–গাছ।

চা–বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আগাম বৃষ্টি চা–উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। কারণ বৃষ্টির পরপরই চা–গাছে দ্রুত কুঁড়ি বের হতে শুরু করে। এতে মৌসুমের শুরুতেই চা–পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদনও বাড়তে পারে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ১৩ মার্চ দিবাগত রাত থেকে ১৪ মার্চ ভোর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে মোট ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহেও এ অঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চা–বাগানসহ কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সরেজমিনে উপজেলার সাতগাঁও, গান্ধী ছড়া চা–বাগান, ফুলছড়া ও কালিঘাটসহ বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, আগাম বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা–গাছগুলো আবারও সতেজ হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছাঁটাই করা গাছের কারণে বাগানজুড়ে কিছুটা রুক্ষ পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন সবুজ পাতায় ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চা–বাগানগুলো। অনেক গাছে ইতিমধ্যে ছোট ছোট কুঁড়ি ও নতুন পাতা দেখা যাচ্ছে।

বৃষ্টির পানিতে পাতায় জমে থাকা ধুলাবালি ধুয়ে গিয়ে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নির্মল ও সতেজ পরিবেশ। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের চা–পাতা তোলার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। কেউ বাগানের পরিচর্যা করছেন, আবার কেউ ঝুড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন।

ইস্পাহানি জেরিন চা–বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, শীত শুরুর পর থেকেই আমরা কৃত্রিমভাবে চা–গাছে পানির ব্যবস্থা করে আসছিলাম। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় গাছগুলো কিছুটা রুক্ষ হয়ে পড়েছিল। গতকাল হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। এ বছর আমরা অনেক আগেই বৃষ্টি পেলাম, যা চা–বাগানের জন্য খুবই উপকারী।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, বৃষ্টির কারণে চা–বাগানগুলোতে আবার সজীবতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে নতুন চা–গাছ এবং প্রুনিং করা গাছগুলোর জন্য এই বৃষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে অনেক গাছে কুঁড়ি দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে খুব দ্রুত চা–পাতা চয়ন শুরু করা সম্ভব হবে এবং চা উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।