জাতির সংবাদ ডটকম।।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলাটি ছিল পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—এমন দাবি করেছেন মামলার বাদী নিজেই। অভিযোগ প্রত্যাহার ও দুঃখপ্রকাশের পর সামনে এসেছে পারিবারিক বিরোধ, জোরপূর্বক প্রভাব এবং রাজনৈতিক টার্গেটিংয়ের বিস্ফোরক তথ্য।
ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগিয়েছে
* ১৬ জানুয়ারি: ওয়ারী থানায় আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের
* পরবর্তী কয়েক দিন: রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল
* পরবর্তীতে: বাদী শিরাজুম মুনিয়া কেকার দুঃখপ্রকাশ ও প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ
* মিমাংসা: থানায় অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতার তথ্য
নাটকীয় মোড়: অভিযোগকারীর স্বীকারোক্তি
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার বাদী শিরাজুম মুনিয়া কেকা পরবর্তীতে জানান—তাঁর সাবেক স্বামী প্রিন্স তাঁদের কন্যা পৃথিবীকে জিম্মি করে তাকে জোরপূর্বক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য করেন। কেকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক চাপ, ভয় ও পারিবারিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে অভিযোগটি দায়ের করানো হয়।
এই স্বীকারোক্তির পর প্রশ্ন উঠেছে—এমন গুরুতর অভিযোগ কীভাবে যাচাই ছাড়াই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলো?
পারিবারিক বিরোধ থেকে ‘টার্গেট কিল’ কৌশল
সূত্রগুলো বলছে, কেকা ও তাঁর সাবেক স্বামীর দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘদিনের কলহই ছিল এই ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট। পারিবারিকভাবে আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার সঙ্গে উভয়ের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সন্দেহ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের জায়গা থেকেই রহিমকে টার্গেট করা হয়।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত বিরোধকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়া হয়—যাতে সামাজিকভাবে তাকে হেয় করা যায় এবং দলীয় অবস্থান দুর্বল করা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুঁইয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার কারা নির্যাতন ও একাধিকবার গুমের শিকার হয়েছেন। জিয়া পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আদর্শিক অঙ্গীকার থেকে তিনি সব পরিস্থিতিতেই বিএনপির কর্মসূচিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত করা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে কেকার সাবেক স্বামী প্রিন্স একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি একটি লিখিত ম্যাসেজ রহিমের সামনে উপস্থাপন করেন, যা রহিম অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়তে শুরু করলে গোপনে মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ ভিডিও পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, এটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ষড়যন্ত্র।
নির্বাচনের আগে কেন এই মামলা?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার একটি কৌশল হিসেবেও এই ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,
* বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি
* এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সঙ্গে যুক্ত একটি অংশ
এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে আব্দুর রহিম ভূঁইয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে।
এমনকি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর ও নাটকীয় তথ্য উপস্থাপন করে রহিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঘটনায়—
* তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
* সামাজিকভাবে সম্মানহানির শিকার হন
* এবং এর ঢেউ গিয়ে লাগে বিএনপির সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্ষতির উদাহরণ।
* অভিযোগ দায়ের: ১৬ জানুয়ারি
* থানা: ওয়ারী
* অভিযোগকারী: শিরাজুম মুনিয়া কেকা
* অভিযুক্ত: আব্দুর রহিম ভূঁইয়া
* বর্তমান অবস্থা: অভিযোগকারী কর্তৃক দুঃখপ্রকাশ ও মিমাংসার দাবি
যে প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত
* উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের পেছনে কারা সক্রিয় ছিল?
* কীভাবে ব্যক্তিগত বিরোধ রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হলো?
* বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিল?
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, পারিবারিক জটিলতা ও রাজনৈতিক স্বার্থ একত্রিত হলে একটি গুরুতর অভিযোগ কীভাবে ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃমূল্যায়ন ও দায়িত্বশীল তদন্ত না হলে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক অঙ্গনে একই ধরনের অপপ্রচারের ঝুঁকি থেকে যাবে।