জাতির সংবাদ ডটকম।।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না; বরং এটি নির্ভর করে জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা ও অংশগ্রহণের ওপর। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি গভীর ও কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার; কিন্তু বাস্তবতায় প্রাপ্তি সীমাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুমাত্র একটি নির্বাচনে।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।
ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেনসহ বিশিষ্টজনরা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনের শুরু থেকেই বিএনপি সংস্কারের প্রশ্নে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপির মহাসচিব প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এটি কেবলমাত্র ছাত্রদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, সংস্কারের নামে যেসব প্রস্তাব ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত ও পাকাপোক্ত করে, সেগুলো সরকার গ্রহণ করছে; অথচ যেসব সংস্কার রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারে, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে বর্জন করা হচ্ছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবগুলো সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে, যা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত। আমরা যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটি তা নয়,বলেন তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তা কেবল নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন কার্যকর, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা।