গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে তবেই শক্তিশালী হবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী 

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিলে তাদের সৃজনশীলতা বিকশিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীনতা পাবে, তত বেশি শক্তিশালী হবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। আর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্র তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘স্বজন স্মরণ’ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যকে সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের ফলে তথ্য এখন আর কেবল ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয় নয়, বরং এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো তথ্য তৈরির ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত ডাটা সিস্টেম অপরিহার্য। এই ডাটা সিস্টেমে প্রবেশের জন্য শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে তথ্যের আদান-প্রদান ও ব্যবস্থাপনা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে এখনো সেই মানের সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক প্রতিভাবান ও জ্ঞানী মানুষ থাকলেও আধুনিক বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা। সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংবাদপত্র মালিকদের দ্রুত ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা জ্ঞানভিত্তিক এই পেশায় নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় আরও মনোযোগী হতে পারেন।
সাংবাদিক নীতিমালার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের নীতিমালা নির্ধারণের দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই নিতে হবে। সাংবাদিকরা যে নীতিমালা তৈরি করবেন, সেই নীতিমালার মাধ্যমেই গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত বরিশালের কয়েকজন সাংবাদিক নেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম মিজান, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম এবং বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকত।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, পিআইডি বরিশালের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোছাম্মত আফরোজা নাইচ রিমা, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ প্রেসক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।