জাতির সংবাদ ডটকম।।
চলচ্চিত্রে ধূমপানবিরোধী বার্তা জোরদার ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ জানানো হয়েছে।
২৯ নভেম্বর ২০২৫ (শনিবার) বিকেলে বিএফডিসি’র সেমিনার হলে “চলচ্চিত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালক-প্রযোজকদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান বক্তারা। দর্শকরা বিশেষত: শিশু-কিশোররা যাতে চলচ্চিত্র দেখে ধূমপান, মাদকে নিমজ্জিত না হয়, সে বিষয়ে পরিচালক-প্রযোজকবৃন্দ কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি যৌথভাবে সভাটি আয়োজন করে।
মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিত’র সভাপতি শাহিন সুমন, চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখনে মানস এর সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার। অন্যান্যর মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা’র সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান, বিইআর-ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রামস্ সৈয়দা অনন্যা রহমান প্রমূখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানসের প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত এবং সঞ্চালনা করেন মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট এন্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।
এ সময় বক্তারা বলেন, ধূমপান, মাদক সেবনের দৃশ্য চলচ্চিত্রে তুলে ধরার অর্থ হলো সমাজ, সভ্যতাকে হত্যা করা। দুই ঘন্টার চলচ্চিত্রে শতাধিক ধূমপানের দৃশ্য ‘কাহিনীর প্রয়োজনে’ দেখানো হয় না। চরিত্রের প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে ধূমপানকে ফোকাস করার পেছনে ধূর্ত তামাকে কোম্পানির অপচেষ্টা রয়েছে। তামাক কোম্পানি কিশোর-তরুণদের তামাকের নেশায় উৎসাহিত করতে বিনোদন মাধ্যমের অপব্যবহার করছে। চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য সংযোজন করা হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তামাক সেবন ও ধূমপানের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিসমূহ সচিত্র আকারে প্রচারে ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। এছাড়াও ধূমপান, মাদক, ভাষার অপব্যবহার রোধে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালাটি চূড়ান্ত এবং আলাদা একটি গাইডলাইন প্রণয়নে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে ৪০ জন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক, চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এর কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রত্যাশা, টিসিআরসি-ডিআইইউ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ডরপ্, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।