চান্দিনায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া: বিআরজেএ’র তীব্র প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।। 

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো এবং নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী এবং মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে অপমান, হেনস্তা ও হাতকড়া পরানো শুধু অমানবিকই নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।বিআরজেএ নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটান। পরে সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম জানান, তার এক আত্মীয়ের নামজারি সংক্রান্ত একটি বিষয় প্রায় এক বছর ধরে ঝুলে ছিল। নির্ধারিত শুনানির দিনে তিনি সহকর্মী রাসেল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান। দুপুর পৌনে ২টার দিকে শুনানির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, ওই আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে এসিল্যান্ড তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ডেকে তাদের দুজনকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠিয়ে দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল আলিম অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তাদের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও মুছে ফেলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আর কোনো প্রতিবাদ না করার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে তিনি ‘সাংবাদিকতা পেশার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতারাও তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে লাঞ্ছিত করা গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুন্ন হবে।
বিআরজেএ নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সংগঠনটি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানানো হয়।