নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে দীর্ঘ দিনের নির্বাচনহীনতা, দমন-পীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আজ সোমবার দুপুরে বগুড়া শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি ও গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আজকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ভূমিকার কারণে আমরা একটি নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি। যেখানে আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনভাবেই হারানো চলবে না। ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে আপনার সরকার আপনিই নির্ধারণ করবেন। আপনার জনপ্রতিনিধি কে হবেন। কে সংসদে গিয়ে আপনার কথা বলবেন। সেটি আপনিই ঠিক করবেন। আগে ঠিক করতো শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন এটি ঠিক করবেন। আমরা অসাধারণ একটি নির্বাচন করতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যেই প্রার্থীকে, যাকে ইচ্ছা ভোট দেব। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় আমরা অন্যকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কোন সমস্যা করব না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে গেলেন। কাজেই আমরা সবার ভোটাধিকার উন্মুক্ত রাখব।
গণভোটের বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমবারের মতো এবার প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিতে পারছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম তখন বলেছিলাম আমাদের তিনটা প্রধান কাজ। একটা হচ্ছে সংস্কার। আরেকটি হচ্ছে- গণহত্যাকারীদের বিচার। অন্যটি হচ্ছে নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি চান এই দেশে থেকে বৈষম্য দূর হোক। নিপীড়ন দূর হোক। অবিচার দূর হোক, দুর্নীতি দূর হোক। তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দিবেন। আর যদি আপনারা অন্যায় অবিচারের পক্ষে থাকেন। তাহলে আপনি না ভোট দিবেন। আমরা এ দেশ থেকে দুর্নীতি, অবিচার, অনিয়ম, শোষন দূর করার জন্য হ্যাঁ ভোট দিব। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়। এটা দলের স্বার্থে গণভোট না। এটা দেশের স্বার্থে গণভোট।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এস. এম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা।