
জাতির সংবাদ ডটকম।।
তিন দফা দাবি আদায়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি— এই তিন দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের ছয়টি পৃথক সংগঠনের মোর্চা ‘সহকরী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে হাজারো শিক্ষক অংশ নিয়েছেন। পুরো শহীদ মিনার চত্বর এসময় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
শিক্ষকরা বলছেন, দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেবেন। মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। বর্তমান সরকার এই দাবি পূরণ না করলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় গেলে এই দাবি পূরণের আশ্বাস দেন তিনি। আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মহাসমাবেশে সংহতি জানানোর কথা রয়েছে।
মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, শিক্ষকের কাছে দাবি পূরণ না করা হলে তিনি শিক্ষকের পক্ষে আইনি লড়াই করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন। মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদদীন মাসুদ।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ এর আগে সমকালকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডের দাবি জানাচ্ছি। সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সর্বশেষ আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় পে কমিশনে পাঠিয়েছে। কিন্তু আমরা এটিকে সময়ক্ষেপণ মনে করি।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণে সহকারীদের শতভাগ পদোন্নতি চাওয়া হচ্ছে।
দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১৬ হাজার টাকা) ভোগ করছেন। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১১ হাজার টাকা) আছেন। ফলে চাকরির এক দশক পর ইনক্রিমেন্টসহ দুই পদের বেতন ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সহকারী শিক্ষকরা এটিকে চরম বৈষম্য হিসেবে দেখছেন।
তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে তেমন পার্থক্য ছিল না, কিন্তু এখন প্রধান শিক্ষকরা সহকারীদের তিন ধাপ ওপরে অবস্থান করছেন। এমনকি অনেক প্রধান শিক্ষকও চান, তাদের ১০ম গ্রেডের প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সহকারীদের ১১তম গ্রেডও ঘোষণা হোক।
দাবি আদায়ে সহকারী শিক্ষকরা এর আগে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করেন। ৫ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি দিয়ে শুরু করে, পরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিও পালন করেন। সর্বশেষ ২৯ মে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন তারা।