বিকুল চক্রবর্তী:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ লক্ষ্যে রোববার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিবিজি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা—এই তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ডিপোতে সার্বক্ষণিক একটি করে সেকশন দায়িত্ব পালন করছে এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এছাড়া সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জ জেলার ১০টি জ্বালানি ডিপোসহ দেশের মোট ৯ জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১১৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত ও আকস্মিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। আইসিপি ও এলসিপি দিয়ে চলাচলকারী ট্রাক-লরি ও অন্যান্য যানবাহনে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত তেল বহন করে পাচারের কোনো সুযোগ না থাকে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সবাইকে তেল নিয়ে সৃষ্ট কোন গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান।
বিজিবির এই তৎপরতায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা পাচারের অপচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানানো হয়। এতে জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফিরে এসেছে।
এদিকে, তেলের পাম্পগুলোতে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন তেলের পাম্পের মালিক, বিজিবি এবং পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমঙ্গল পদ্মা ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বিজিবি মোতায়েনের ফলে তারা এখন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকায় তেল সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।