নির্বাচনী মাঠে দলীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ডিসি-এসপিরা : জামায়াত

বুধবার, জানুয়ারি ৭, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দলীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ভূমিকার সমালোচনা করে তাদের দ্রুত বদলির দাবি জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

ডা. তাহের বলেন, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পরিবর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। আমরা এসব বিতর্কিত ডিসি ও এসপিদের বদলির ব্যাপারে কমিশনকে বলেছি। দেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রার্থীতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা চরম বৈষম্য দেখেছি। বিএনপির ১২ থেকে ১৩ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একই আইনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।

নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে অনেক বেশি প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে একেবারেই দেওয়া হচ্ছে না। মেজর পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে সরকারের আচরণে সমতা থাকা উচিত। ইসি নীতিগতভাবে আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রচার চালাচ্ছে– তারা ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন কার্ড দেবে। এটি সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, আমরা এখন তাদের পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছি।

ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, আমিরে জামায়াত যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ভারতীয় দূতাবাস দেখা করতে চেয়েছিল। তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল এবং আমরা তাদের সেই অনুরোধ রেখেছি। এর বাইরে ভারতের সঙ্গে কোনো ফরমাল বৈঠক হয়নি।

একইভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি, শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের যেকোনো রায় আমরা মেনে নেব।

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে ইসি আশ্বস্ত করেছে। তবে আবার যদি সাজানো নির্বাচন হয়, তবে দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। একটি দল এমন ভুলের কারণে এখন নির্বাসনে আছে। দেশের স্বার্থে সবাইকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক রয়েছে, যা আমরা কমিশনকে অবহিত করেছি বলেও জানান তিনি।