বিকুল চক্রবর্তী:
ইউরোপের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টেডামে-এ প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন কমিউনিটির মধ্যে সৃষ্টি করেছে আনন্দ, ঐক্য এবং নতুন উদ্দীপনা।
আয়োজকরা জানান, এতদিন ঈদের জামাত ও আনুষ্ঠানিকতা মূলত মসজিদ কিংবা নির্ধারিত হলরুমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে, খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় এবং উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে এক ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে প্রবাসী জীবনে।
এই আয়োজনে অংশ নেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলমান। ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টেডামের নেলসন ম্যান্ডেলা পার্ক-এ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় এই ঈদের জামাত।
ঈদের এই জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মাহমুদুর হাসান। খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে প্রবাসে থেকেও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া অনুভব করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ আয়োজন সফল করতে নেপথ্যে কাজ করেন মো: মিনহাজ, মো. জাহেদ, মো. নাঈম, মো. ইমন, মো. মামুন, শুভ ও নাহিদসহ আরও অনেকে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়।
আয়োজকদের অন্যতম মিনহাজ বলেন, “প্রথমবারের মতো আমরা আমস্টারডামে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা।” তিনি আরও জানান, এই আয়োজন সফল করতে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আয়োজকরা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করায় নেদারল্যান্ড আমস্টারডাম-জুইডোস্ট, মিউনিসিপালিটি প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তিনি যারা ভলান্ঢিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য মো: নাঈম বলেন, দেশের মতো করে ঈদ উদযাপনের এই সুযোগ তাদের আবেগাপ্লুত করেছে।
তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়—এটি ছিল কমিউনিটির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি উদ্যোগ। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই উন্মুক্ত ঈদ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটিও এতে সম্পৃক্ত হবে।
প্রবাসে থেকেও দেশীয় আবহে ঈদ উদযাপনের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।