
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী পরবর্তী সরকারগুলো ব্যর্থ হতে থাকলে এবং পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন না হলে আওয়ামীলীগ নিশ্চিত ঘুরে দাঁড়িয়ে দুুর ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে পারবে। আওয়ামীলীগের স্বার্থ রক্ষাকারীদের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় ও পিআর এর বিরুদ্ধে বিএনপির অনড় অবস্থানের কারণে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা নেই।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস গংরা দুর্নীতিতে জড়িত থাকা ও দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে ব্যর্থ হওয়ায় এবং তারেক রহমানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছে নিরাপদ প্রস্থানের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করায় ড. ইউনূস সরকারও বিএনপির স্বার্থ রক্ষার্থে পিআর পদ্ধতি মানবে না। মঈন উদ্দীন-ফখরুদ্দিন এর মতো দুর্নীতি করে তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে দায়মুক্তি তথা পিঠ বাঁচাতে তৎপর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। তারা দুর্নীতি না করে ভালো ইমেজ সৃষ্টি করতে পারলে বিএনপির বিরোধিতাকে পাশ কাটিয়ে পিআর পদ্ধতি বাস্তাবায়ন করতে পারতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সেই সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে ফেলায় তাদের দ্বারা পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
ইসলামি দলগুলো বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন পিআর নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে থাকলে দেশে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিবে। পিআর এর দাবি মানানো তাদের দ্বারা এখন মোটেও সম্ভব নয়। তারা দাবিতে অটল থেকে আন্দোলন করলে দাবী আদায় হওয়ার পরিবর্তে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত বাস্তবায়ন হয়ে দেশ সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ফেলবে। তাই পিআর নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করা উচিত হবে না।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেন্দ্র দখল কেউ করতে পারবে না। যেহেতু পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোট এর মূল্য রয়েছে, সেহেতু প্রত্যেক দলের জানবাজ কর্মীরা সকাল থেকে ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের আশেপাশে পাহারায় থাকবে তাই কেন্দ্র দখলের সাহস কেউ করবে না। জামায়াত সর্বোচ্চ ৫০টি আসনে বিএনপিকে ট্যাকল দিতে পারবে। পেশীশক্তিতে বাকী ২৫০টিতে বিএনপির সাথে পেরে উঠতে পারবে না। কিন্তু যদি পিআর এ নির্বাচন হয় তাহলে ছোট-খাটো সব দলের জানবাজ কর্মীরা তাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাকে জেতানোর জন্য জামায়াতের জনবলের সাথে যুক্ত হয়ে বিএনপিকে সহজে ট্যাকল দিতে পারবে। বিএনপি জামায়াতকে ২৫০ আসনে ট্যাকল দেওয়ার সামর্থ্য থাকলেও সব দলের জানবাজরা জামায়াতের সাথে যুক্ত থাকলে তখন সমান সমান শক্তি হওয়ার কারণে শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকবে। তারমানে বাংলাদেশের কোনো কেন্দ্রে কেউ জালিয়াতি কিংবা কেন্দ্র দখল করতে পারবে না।
এখন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প আরো বিভিন্ন কৌশল/পদ্ধতি যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কার্যকর, সেই সব কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সেসব কৌশল/পদ্ধতি অন্তর্বর্তী সরকার যাতে অবলম্বন করে তারজন্য জোড়ালো দাবি জানিয়ে তা আদায় করতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আদায়ের দাবিতে অনড় থাকা দলগুলো দেশ বাঁচাতে পিআর এর দাবি থেকে সরে এসে বিকল্প কার্যকর কৌশলের দ্বারস্থ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।