পুরান ঢাকার স্থাপত্যশৈলী আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডেস্ক: ইতিহাস আর জীবন্ত সংস্কৃতির শহর পুরান ঢাকা একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল কূটনৈতিক সফরের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন স্ত্রীসহ এই পুরোনো নগরের অলিগলি ঘুরে দেখেন, উপভোগ করেন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূতের এই সফর শুরু হয় মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনের মাধ্যমে। বিশেষ করে কেল্লার হাম্মামখানা (তৎকালীন রাজকীয় স্নানাগার) ঘুরে দেখেন তারা।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের আর্থিক সহায়তায় সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুনরুজ্জীবিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কাজ ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত।

লালবাগ কেল্লা থেকে বেরিয়ে তারা যান সপ্তদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক হোসেনী দালানে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর তারা পুরান ঢাকার চিরচেনা সেই ব্যস্ত গলিপথে হেঁটে বেড়ান। যান্ত্রিক শহরের মধ্যে পুরান ঢাকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং অলিগলি দেখে রাষ্ট্রদূত বেশ রোমাঞ্চিত হন।

ভিডিও বার্তায় সালাম বিনিময় করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘শুভ দিন। হ্যালো, আমি ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। আজ আমি পুরান ঢাকায় এসেছি। ২০২১ সালে আমার পূর্বসূরি রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার এই স্থানটিকে মনোনীত করেছিলেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রদূত তহবিলের জন্য। আমার মনে হয় আরও অসংখ্য কাজের মাঝে এটা একটা দারুণ উদাহরণ।’

স্থাপত্যশৈলীর সংস্কার কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এখানে দারুণ কাজ হয়েছে, যা সত্যিই খুব সুন্দর। মাত্র কয়েক বছর আগে যেরকম দেখেছিলাম, তার চেয়ে একেবারেই আলাদা। আজ আমি জানতে পারলাম যে, আমি আগে এখানে একবার এসেছিলাম। প্রথমে মনে পড়েনি, কিন্তু যখন তারা আমাকে ঘুরিয়ে দেখাল, তখন মনে পড়ল। তাই আবার এখানে ফিরে আসতে পেরে এবং এত উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।’

মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, পুরান ঢাকার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এবং তার স্ত্রী ডিয়ান। তাদের সফর শুরু হয় লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডর’স ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’-এর সহায়তায় যত্নসহকারে সংস্কার করা হয়েছে।