প্রথম কোন এমপি দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরী করছেন পঞ্চবার্ষিকি উন্নয়ন পরিকল্পনা

শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬

বিকুল চক্রবর্তী:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তৃণমূল থেকে শহর পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা পেশার মানুষের কাছ থেকে সরাসরি এলাকার সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে মতামত জানতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এই ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করেন মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য দুরুদ আহমদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কৃষক, ব্যবসায়ী ও সুধীজন।
সভায় গারো, সাঁওতাল, খাসিয়া, মনিপুরি, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং চা শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং মানুষের কাছ থেকে উঠে আসা সমস্যাগুলো নোট করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি আগামী পাঁচ বছরে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে চান। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় দলমত নির্বিশেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলার তৃণমূল থেকে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় উন্নয়ন প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া জরুরি—সেসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও পরামর্শ তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়। এতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার সুযোগও থাকে না।
এ সময় তিনি জানান, শতাধিক মানুষের কাছ থেকে এলাকার সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যাতে শ্রীমঙ্গলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকার জনগণের সহযোগিতা, পরামর্শ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় শ্রীমঙ্গল গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই সমন্বয় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর থেকে আসা মনিপুরি অধিবাসী ভূবন সিংহ বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিই। কিন্তু অনেক সময় তাতে কোনো কাজ হয় না, অনেকেই আমাদের কথায় তেমন গুরুত্বও দেন না। তবে নতুন সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী আমাদের ডেকে এনে জানতে চেয়েছেন আমাদের এলাকায় কী কী কাজ প্রয়োজন। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। তিনি সেগুলো নোট করেছেন এবং পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী ফিলা পত্মী বলেন, উন্মুক্ত মঞ্চে এমপি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন কোথায় কী কাজ করা প্রয়োজন তা জানানোর জন্য। আমরা আমাদের এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। এর আগে কোনো সংসদ সদস্য এভাবে আমাদের কাছে এসে জানতে চাননি।
চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা ও পরিমল সিং বারাইক বলেন, আমাদের নতুন সংসদ সদস্য চা শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিক। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো তার সামনে তুলে ধরেছি এবং তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সেগুলো নোট করেছেন।
ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জনক দেববর্মা বলেন, আমরা উন্মুক্ত মঞ্চে এসে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। এটাই প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা।
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম কামরুল সবাইকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করায় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সঠিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।