বিদেশী সবজি উৎপাদনে কৃষক আজিজুলের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে

বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

দিলীপ কুমার দাস নিজস্ব প্রতিবেদক।

মাটির নিচে রক্তিম ফসল! কাটলেই বের হয় লাল রঙের মূলান্যায় বিটরুট। কাঁচা খেতেও সুস্বাদু। মাহে রমজানে বিটরুট জুসও মজাদার। থাইল্যান্ডের সেই বিটরুট এখন চাষ হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। এ ভিনদেশী ফসল উৎপাদনে এলাকায় বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তিনি উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পল্টিপাড়া গ্রামের আজু মিয়ার পুত্র।

তিনি জানান, গত বছর মাত্র ৫শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন। বিক্রিয় হয় প্রায় ৩০হাজার টাকা। খরচ হয়েছিলো মাত্র ১হাজার ৪৬০ টাকা। এবার তিনি ১৭শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন। ২শতাংশ জমিনের বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮হাজার টাকা। আরও প্রায় ৩-৫ হাজার টাকা বিক্রি হবে। অপর জমিনে রয়েছে বিশাল বিটরুট। সেখালে বিক্রি হবে প্রায় দুই লাখ টাকা। আজিজুল হকের পুত্র মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, দেখতেও রঙিন, দামেও ভালো পাচ্ছি। এলাকার অনেকেই খেতে বিটরুট দেখতে আসছে।

এ প্রসঙ্গে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে এ ফসল কেউ করতে আগ্রহী ছিলো না। আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আজিজুল হকের অনুপ্রেরণায় পাছার গ্রারের কছিম উদ্দিনের পুত্র মো. দুলাল মিয়া, পল্টি পাড়ার চানফর আলীর পুত্র আবুল বাসারও বিটরুট চাষ করেছেন।
ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচও কম। অনেক লাভ। যা আগে কৃষকরা জানতো না। এখন অনেকেই এ ফসল চাষ করতে আগ্রহী।
কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা কওে আসছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনিছুর রহমান জানান, বিটরুট মূলত পুষ্টিকর সবজি। তবে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । যা শরীরের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর করা, লিভার পরিষ্কার, হজম শক্তি, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো, ক্যানসার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।