নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার কোতোয়ালি থানার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুজ্জামান এ অভিযোগপত্র দেন।
পরে গত ২০ জানুয়ারি আদালত মামলাটি বিচারে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক সচেতনভাবে ও জ্ঞাতসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদন ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রা নিজ হেফাজতে রাখেন। তারা জব্দকৃত বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সূত্রে জানতে পারেন নিউমার্কেট থানার হত্যা মামলায় জড়িত আসামি সদরঘাট ২নং মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রেখে অবস্থান করছিলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে হাতে-নাতে আটক হন। পরে তারা তাদের নাম-ঠিকানা জানায়। আটকের পর আসামি আনিসুল হকের কাছে থাকা ব্যাগে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়।
এসময় সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানে সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, ১৩২১ ইউরো, ৬২৩০ ভুটানের গুলট্রাম, ৩৩২০ থাই বাথ ও ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন।