
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইতিমধ্যে থাকা একটি রণতরীর সঙ্গে আরও একটি রণতরী যুক্ত করা হবে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আনা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ মূলত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ ও তাদের সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক নৌবাহিনীর ওপর হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং মুক্ত বাণিজ্যের পথ রক্ষা করার জন্য কার্ল ভিনসন রণতরী হ্যারি এস. ট্রুম্যানের সঙ্গে যুক্ত হবে।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক আকাশ সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০২৩ সালে গাজায় হামলা শুরুর পর থেকে হুথিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, তারা ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এই হামলা চালাচ্ছে।
হুথিদের হামলার কারণে সুয়েজ খাল হয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ বহন করে। এ কারণে অনেক কোম্পানিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হুথিদের সামনে দুটি পথ খোলা। আমাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করো, তাহলে আমরাও হামলা বন্ধ করব। না হলে আমরা কেবল শুরু করেছি, এবং আসল আঘাত এখনও বাকি।’
তিনি আরও বলেন, ১৫ মার্চ থেকে হুথিদের ওপর টানা হামলা চলছে, এবং প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী আঘাত হানা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, যখন অনেক সামরিক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু সমঝোতায় আসতে হবে। অন্যথায় তাদের উপর এমন বোমা হামলা চালানো হবে। যা ইরান আগে কোনোদিন দেখেনি।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি বলেন, হামলার হুমকি, নিছক ভয় দেখানো। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে বলে তার মনে হয় না। এরপরও যদি এমনটা হয় ইরান অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।