হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
উগ্রবাদ ও মৌলবাদী বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দুইজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাদের এই প্রতিবাদ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
মাধবপুর উপজেলার মাঝিসাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তন্নি রহমান সম্প্রতি এক মৌলভীর নারীদের অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি নারীদের প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে অনৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন “বেডির (নারী) ঘরের বেডিই আমি”, যা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, উপজেলার সুরমা চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) ও শিক্ষক নেতা নয়ন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেলিভিশনকে ‘হারাম’ ফতোয়া দিয়ে ভাইরাল হওয়া তথাকথিত ‘টিভি ভাঙা’ ঘটনাকে হিপোক্রেসি উল্লেখ করে একটি যুক্তিনির্ভর পোস্ট দেন। তিনি তার পোস্টে প্রশ্ন তুলে বলেন, টেলিভিশন যদি হারাম হয়, তাহলে সেই বক্তব্য প্রচারের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ভিডিও মাধ্যমও একইভাবে হারাম হওয়ার কথা। তার মতে, প্রকৃত জ্ঞান ও যুক্তির অভাব থেকেই এমন চরমপন্থী ব্যাখ্যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এই দুই শিক্ষকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাদের সাহসী ও যুক্তিনির্ভর অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষকদের এমন ভূমিকা উগ্রবাদ ও মৌলবাদ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক মাদ্রাসার মুফতি ও গণমাধ্যমকর্মী মুফতি জাকির রহমান বলেন, “ইসলাম কখনো উগ্রতার শিক্ষা দেয় না। চাকরি কিংবা ব্যবসায় নারীদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ইসলাম প্রযুক্তিকেও নিষিদ্ধ করে না। আল কুরআনের আরেক নাম ‘আল-হাকিম’, যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক। সুতরাং জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করা সবার জন্য ফরজ।