রাজনীতির ২৫ বছরের পথ চলা ও আমার না বলা কথা

মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬

।। মো: সাইফ উদ্দিন।।

রাজনীতির ২৫ বছরের পথ চলা ও আমার না বলা কথা
দীর্ঘ ২৫ বছর রাজনীতি করি। ২০০১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ উচ্চমাধ্যমিক শাখায় বানিজ্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক , সাবেক সভাপতি কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দল সাবেক ছাত্রনেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার এর হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর ছাত্র রাজনীতি শুরু করি। আমার বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রাম। সেখান থেকে কুমিল্লা এসে সর্ব প্রথম ২০০১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ উচ্চমাধ্যমিক শাখার ক্লাস কমিটির সভাপতি, ২০০৪ সালে কলেজ ছাত্রদল ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক , ২০০৯ সালে যুগ্ম আহবায়ক ২০১১ সালে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ২০১৭ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক ২০২৫ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকেই আমি এইচএসসি , অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করি হিসাব বিজ্ঞান থেকে। এই দীর্ঘ সময় কুমিল্লার রাজপথে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে নিজের মেধা যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে দলের দুঃসময় পদ পদবি দায়িত্ব পালন করি। এই দীর্ঘ ২৫ বছর ছিলো এক সংগ্রামের জীবন। ১২ টি মামলা, কারাগারে যেতে হয়। এক দীর্ঘ অনিশ্চিত সংগ্রাম করি প্রতিনিয়ত। দলে ছিলাম আজও আছি সাইফ উদ্দিন ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো। তবে আমার পাশে ছিল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সার ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নবনির্বাচিত প্রশাসক জবাব ইউসুফ মোল্লা টিপু আর একঝাঁক মেধাবী সহযোদ্ধা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদল। বিগত ১৬/১৭ বছর ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন কুমিল্লার রাজপথে ভ্যানগার্ড এরাই ছিল। তবে কচুয়ার একজন দলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের চেয়ে রাজনীতির মাঠে আমার অবদান কম। বিগত ফ্যাসিস্ট এর সময়, দুঃসময়ে আমার ভগ্নিপতি কচুয়া উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল প্রধান দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেছে। কচুয়া উপজেলা বিএনপি রাজনীতির হাতেখড়ি যাদের হাতে হয়েছে তাদের মধ্যে তিনি একজন। সে সময় তিনি ও আমরা পারিবারিক ভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতগ্রস্থ হই। আওয়ামীলীগ কারচুপির মাধ্যমে দুইবার জয় ছিনিয়ে নেয়। কচুয়া পৌর সভা প্রশাসক অথবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে তিনি যোগ্য দাবিদার তবে নির্বাচনে তিনি এগিয়ে যাবেন এই প্রত্যাশা। তবে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব আ ন ম এহসানুল হক মিলন ভাই যখন কুমিল্লা কারাগারে বন্দী ছিলো তখন উনার জন্য মানববন্ধন করেছি। ড. এহসানুল হক মিলন ভাইয়ের বিশাল বহর নিয়ে যখন কুমিল্লা টাউন হলে প্রবেশ করে একটা সিন্ডিকেটের বাধা উপেক্ষা করে আমি নাম ঘোষণা করি।
সে সময় অনেক ষড়যন্ত্র ছিলো , যা কচুয়ার সবাই অবগত ,কচুয়ায় যারা সিনিয়র পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে সবার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো যোগাযোগ ও ছিলো। বিগত সময় অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল মিলন ভাই কে নিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমার সাথে যাদের কথা হয়েছে আমি একটা কথাই বলেছি দলীয় মনোনয়ন মিলন ভাই যোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের দল হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দল।
আমাদের ভাবতে হবে বিগত ১৬/১৭ বছর দলের জন্য আপনার ভূমিকা কি??
আপনি বিগত সময় কি দেশে ছিলেন নাকি প্রবাসে অথবা যেখানেই ছিলেন আপনার দলের জন্য মামলা /হামলা/ গ্রেফতার আমলনামা কি?
তা দিয়েই দল মূল্যায়ন করবে। রাজনীতির প্রতিযোগিতা থাকবে তাতে যেন কোন প্রতিহিংসা না নেয়।
আমাদের সরকার ও দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থানীয় নির্বাচন দল গত নাও হতে পারে।
এই নির্বাচনে তারপরও দলের একটা সাপোর্ট থাকবে। দল যাকে সমর্থন দিবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যারা বিগত ১৬/১৭ বছর জেলা ও মহানগর ও উপজলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিলো দল আগামীতে অনেক দায়িত্ব ও নেতৃত্ব তাদের থেকেই দিবে। সিটি করপোরেশন প্রশাসক পদ তার উদাহরণ। আরেকটা কথা হল, দল করি দল কে ভালোবাসি। প্রত্যেক মানুষ তার মৃত্যুর পরে আপন ঠিকানা জন্ম স্থানে সমাহিত হয়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি কচুয়ার নির্যাতিত নিপড়িত ১৬/১৭ বছর ১২ ইউনিয়ন এর ১২ জন নেতাকর্মী আমাকে পছন্দ করলে তাদের নিয়েই আমি পথচলা শুরু করতে চাই।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর ইশতেহার বাস্তবায়ন ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে চাই ইতিমধ্যে উলামা দলের সদস্য সচিব আবুল হোসেন
কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি খায়রুল স্বপন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহি সুভাষ, শরপ উদ্দিন আহম্মেদ , নুর মোহাম্মদ কচি, হাবীব্বুনবী সুমন , জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান সহ যারা প্রার্থী সবার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রইলো। কারন এই
কচুয়া ছিল একটা কারাগার। বিগত শত মামলা হামলা মোকাবেলা করে উনারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ইশতেহার ও ৩১ দফা বাস্তবায়ন ক্যারিশমাটিক নেতা মাননীয় মন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন এর কচুয়া সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, মাদকমুক্ত, শিক্ষিত সমাজ গঠনে আধুনিক কচুয়া গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি একটা নিরপেক্ষ আইডি থেকে আপডেট দিয়েছিলাম। এতে প্রায় ২৫০০ জন্য লাইক পছন্দ দিলো। ভোট দিবে সাধারণ জনগণ। মানুষ এখন দক্ষ নেতৃত্ব খুঁজে। আগামী দিনের সমাজ ও খুব কৌশল মেধাবী জামায়াত ও এনসিপি পাল্লা দিতে হলে সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। তবে আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি পদ পদবি ক্ষমতা রিজিক আসমানে ফয়সালা হয়, দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আমি চাইতে পারি চেষ্টা করতে পারি। কচুয়ার সর্বস্তরের জনগণকে আবারও অভিবাদন জানাই। বিদ্র: সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জুলাই গন অভ্যুত্থান এর পরে বিতর্কিতদের দল দায়িত্ব দিবে না যাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে এটাও একটা বার্তা। বিএনপির চেয়ারম্যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ড, ইমাম, মোয়াজ্জেম ধর্মগুরু ভাতা, স্বাস্থ্য কার্ড, কারিগরি শিক্ষা স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও গুজব ও অপপ্রচার জবাবে টিকে থাকতে হলে সাবেক ছাত্রনেতাদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। কারন ১৬/১৭ বছর সাবেক ছাত্রনেতারা কর্মীদের কষ্টের কথা বুঝবে, পাশে থাকবে।
লেখক:
মো: সাইফ উদ্দিন , যুগ্ম আহবায়ক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল।