শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফারুক আহমদ নামে এক ব্যক্তি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুখ আহমদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারুখ আহমদের ভাতিজা মো: জিল্লুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২৩/০৮/১৯৯৮ সালের ২৩ আগষ্ট শ্রীমঙ্গল উত্তরশূর মৌজার হবিগঞ্জ রোডস্থ ভটের মিল এলাকায় আর,এস ৭৭৫ খতিয়ানের আওতায় ৫৮২৩ দাগ ও এস এ খতিয়ান-১৫৯৪ যার দাগ নং ৪২২২ এ ১০ শতক ভূমি আমরা ক্রয় করি।
পরবর্তীতে উক্ত ভূমি নিজ নামে নামজারী করিয়া সন সন খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি।
বিগত গত বছরের ১১ অক্টোবর আমার ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ করতে চাইলে পার্শ্ববর্তি জমির মালিক দেলান মিয়া আমার ভূমিতে দেয়াল দিতে নিষেধ করেন এবং এই জমি তার বলে দাবী করেন। আমি তাকে উভয়পক্ষের জমির কাগজ নিয়ে একসাথে বসে যাচাই-বাছাই করে দেখার অনুরোধ করি। কিন্তু নানা তালবাহানা করে দীর্ঘদিন যাবত উনি আমাকে কোন তারিখ দেননি।
পরবর্তীতে আমি স্থানীয় লোকজন নিয়ে সার্ভেয়ার আলী হোসেনসহ আমাদের ভুমি পরিমাপের জন্য উপস্থিত হই। কিন্তু দোলন মিয়া পুনরায় আমার কাজে বাধাঁ সৃষ্টি করেন। এ সময় শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সাবেক ইউ/পি সদস্য আনোয়ার উদ্দিনকে ফোন করে জানান, দেলান মিয়া তাঁর আত্মীয়, বিষয়টি তিনি মিমাংশা করে দিবেন।
পরবর্তিতে দোলন মিয়ার সম্মতিতে কামাল হোসেন বিচারের সময় নির্ধারণ করে দেন। তারিখ অনুযায়ী ৪জন সার্ভেয়ার খোরশেদ আলম, আলী হোসেন, মোস্তফা মিয়া ও নেছার আহমদ কে নিয়ে কাগজ যাচাই বাছাইয়ে বসা হয়। এ সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা মুকসুদ আলী, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান রিপন, ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাফিজ আহমদ, আক্তার হোসেন, জেলা ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসেন লুপ্পা সহ ৪০/৫০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পর পর কযেকদফা যাচাই-বাছাই শেষে সার্ভেয়ার ও মধ্যস্থতাকারীগণ ফারুখ আহমদ ও রৌউফ উদ্দিনের কাগজপত্র সঠিক বলে জানান।
এ সময় বিচারকগণের পক্ষে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল আমাদের ভূগদখলের অনুমতি দেন।
যথারীতি গত ৯ মার্চ সকালে আমরা আমাদের জমিতে টিন দিয়ে সীমানা প্রাচীর দেই। ওই দিন বিকেলেই দেলান মিয়া দলবলসহ এই সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন।
এ বিষয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে আমি শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
পরবর্তীতে ফেইসবুকের মাধ্যমে আমি দেখতে পাই যারা বিচারে ছিলেন তাদের নিয়ে দোলন মিয়া ও তার ভাই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করছেন।
দোলন মিয়ার ভাই তার ফেইসবুক আইডি: Ruhul Amin Shuvo. থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মশিউর রহমান রিপন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন ঝারু ও জসিম আহমদসহ আরো কয়েকজনের নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর অপপ্রচার করেন। মুলত তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সত্যতার আলোকে সালিশ করে দেন। সত্যের পক্ষে থাকায় এই বিচারিকদের বিরোদ্ধে মানহানীকর ও মিথ্যা অপপ্রচার করছেন তারা। আমরা এর নিন্দা জানাই।
তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে দোলন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই জমি আমার। উনাদের দাগ নাম্বার ভূল।