শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী হনুমান জয়ন্তী উৎসব

শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রূপসপুর আবাসিক এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে তিন দিনব্যাপী হনুমান জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন রামদূত সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে ভক্তদের অংশগ্রহণে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য পরিবেশ।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেল ৫টায় প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রতিমা স্থাপনের পর থেকেই ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। পরদিন বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হয় পূজা-অর্চনা। পূজা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা প্রার্থনা ও আরাধনায় অংশ নেন।

সকাল ১১টায় ভক্তদের অংশগ্রহণে অঞ্জলি প্রদান করা হয়। অঞ্জলি শেষে দুপুর ১টায় ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুসারী অংশ নেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা আরতি। সন্ধ্যার এই আধ্যাত্মিক আয়োজন শেষে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে নৃত্যানুষ্ঠান এবং রাত সাড়ে ৮টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বর্ণমালা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা।

আয়োজকরা জানান, হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ভক্তিমূলক বন্দনা, পূজা-অর্চনা, আরতি, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

রামদূত সংঘের পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির সদস্য প্রীতম পাল জয় ও বাপ্পি রায় জানান, বিশ্বশান্তি ও জগতের মঙ্গল কামনায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। তারা বলেন, “হনুমান জয়ন্তী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটি উপলক্ষে আমরা ভক্তদের একত্রিত করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। এছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরাও আমাদের উদ্দেশ্য।”

তিন দিনব্যাপী এই উৎসব আজ শুক্রবার সকালে সমাপনী পূজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।