সাপাহারে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা: শিক্ষকদের অবরুদ্ধ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বলদিয়াঘাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা, অবরুদ্ধ রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকবৃন্দ। তারা দাবি করেছেন, সরকারি বিধি মোতাবেক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়া নিয়োগকে বিতর্কিত করতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রবিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সাপাহার প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টসহ পাঁচজন শিক্ষক এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ওই ভিডিও বার্তায় তারা গত কয়েকদিনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের জানমালের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

ওই ভিডিও বক্তব্যে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাও: তোজাম্মেল হক জানান, মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে এবং নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

সহ সুপারিনটেনডেন্ট সোলাইমান আলী ও সহকারী মৌলভি আনারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই মহলটি পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করেছে। এমনকি নিয়োগ পরবর্তী সময়ে সুপারসহ শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সহ মৌলভি নুরে আলম ও অফিস সহকারী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “আমরা শিক্ষক সমাজ আজ লাঞ্ছিত। একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চাইছে। আমরা এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার দাবি করি।”

সুপার তোজাম্মেল হক আরও বলেন, “যে সাড়ে ৩ লাখ টাকার কথা বলা হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে এবং মাদ্রাসা ফাণ্ডে জমা রয়েছে। এর বাইরে কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক।”

এসময় উপস্থিত শিক্ষকরা দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যারা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা যেন নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে মাদ্রাসায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মাদ্রাসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর একাংশ মানববন্ধন করেছিল। শিক্ষকদের দাবি, সেই মানববন্ধন ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত একটি ষড়যন্ত্র।