শোবিজের রঙ্গিন ভুবনে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে : রুবিনা আলমগীর

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।।

‎রুবিনা আলমগীর সময়ের আলোচিত মডেল, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী, লেখক ও সংগঠক৷ পুতুল খেলার বয়স থেকেই সংস্কৃতির ঝলমলে ভুবনে ২০০৬ থেকে তার পথচলা। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ সব মাধ্যমেই নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়েছেন ভালোবাসা ও ভালোলাগার সাংস্কৃতিক জগতে। হাঁটি হাঁটি পাঁ পাঁ করে শোবিজের রঙ্গিন ভুবনে দুই দশক পার করেছেন।

‎বিজ্ঞাপনচিত্রে ও মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর চাহিদার নিরিখে প্রায় ডজনখানেক নাটক, ওয়েব ফিল্ম, শর্টফিল্মে অভিনয় করার পাশাপাশি মিউজিক্যাল ফিল্মেও কাজ করেছেন। টেলিভিশনে রুবিনা আলমগীরের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে- মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘হোটেল নিরিবিলি’ রাশেদ মামুন অপুর ‘টেস্টি ট্যুর’ ইত্যাদি। বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির তালিকা ভুক্ত নৃত্যশিল্পী হবার মাধ্যমে পেয়েছেন রাষ্ট্রিয় নৃত্যশিল্পীর স্বীকৃতি। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাডেমির লোক সংগীতে সনদপত্র প্রাপ্ত কন্ঠশিল্পী।

‎নির্মাতা ইফতেখার চৌধুরীর ‘রাজত্ব’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রের বিশাল ক্যানভাসে অভিষেক হয় তার। পরবর্তীতে কাজ করেন এ কে আজাদের ‘বাজি’, তুহিন তোফাজ্জলের ‘কবি’ মোহাম্মদ ইসলামের ” আমার শেষ কথা”, আমিনুল ইসলাম বাচ্চুর ” ফুলজান”, শফিকুল আলমের ” সুস্বাগতম” ইত্যাদি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ” আজান” ও মীর টিপু সুলতানের ‘পাহাড়ি মেয়ে” নামের দুটি চলচ্চিত্র। নিজের লেখা তিনটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন রুবিনা আলমগীর। সে সঙ্গে নিজ কন্ঠে বেশ ক’জন জনপ্রিয় গায়িকার একাধিক কভার সং গেয়েছেন। সবগুলোই তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল “Rubina Alomgir” এ মুক্তি পেয়েছে। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে নিজের কন্ঠে গাওয়া ৫টি গান সহ নিজের লেখা ১টি গান।



‎অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ ও ২০২৫ এ প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা দুটি উপন্যাস। এরমধ্যে ২০২৪ সালে প্রকাশ হয় ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে ‘আত্মকান্না’ ও ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশ হয় ‘দীর্ঘশ্বাস’ নামের একটি উপন্যাস। নিজের সাংস্কৃতিক জগতে উঠে আসা ও ক্যারিয়ারের দুই দশক পূর্তির না বলা গল্প নিয়ে রুবিনা আলমগীর বলেন, একটা লম্বা জার্ণি পার করেছি। এ জার্নিতে আমার কাজের ঝুলিতে জমা হয়েছে মানসম্পন্ন অনেক কাজ। আমি শুধু কাজ করে গিয়েছি। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পাশে না থাকলে এ পথচলা এতটা মসৃণ হতো না। যখন পুতুল খেলার বয়স ছিলো তখন আমি লাইট, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। দেখতে দেখতে কিভাবে দুই দশক পার হয়ে গেছে টেরই পেলাম না।

‎নাচ এবং গান কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নাচ ও গান দুটি আমার শরীরের দুটি অঙ্গ। কোনটাকে ফেলে কোনটাকে বাদ দিতে পারব না। নাচটা আমার সবকিছু জুড়ে, কিন্তু গানটা করি নিতান্তই শখের বশে। দীর্ঘ এ পথচলায় নিজের অর্জনের বিষয় জানতে চাইলে রুবিনা আলমগীর বলেন, একজন শিল্পী তার ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকে কাজ করে। কাজ করার সময় কেউ অর্জনের কথা ভাবে না। কাজ করলে অর্জন এমনিতেই চলে আসে। নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শতাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছি৷ তবে, আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ পথচলায় আমি অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা পুরস্কার। মানুষের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো পুরস্কারের তুলনা হয় না।

‎সম্প্রতি “অনুরাগ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন” নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন এ গ্ল্যামার গার্ল। এত ব্যস্ততার মাঝে সংগঠনে কিভাবে সময় দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ভালো কিছু করার লক্ষ্যেই “অনুরাগ সামাজিক – সাংস্কৃতিক সংগঠন” প্রতিষ্ঠা করেছি। এটা আমার দীর্ঘদিনের একটা পরিকল্পনার ফসল। অল্প সময়েই সংগঠনটি আলোচনার পাদপ্রদীপে চলে এসেছে। সবার দোয়া ও সহযোগিতা থাকলে অনুরাগ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি।

‎কথা প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের বিষয় তুলে ধরে এ মডেল বলেন, পরিবারের কারণেই আমার এ পর্যন্ত আসা। আমার পরিবার আমার সব কাজের সাপোর্ট দিয়ে আসছে। তাদের কথা হচ্ছে আর যাই করো নিজের ও পরিবারের সমস্যা হবে বা সম্মান নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করো না। প্রতিভায় ঝর্ণাধারায় উদ্ভাসিত হয়ে শোবিজের রঙ্গিন ভুবনে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিক রুবিনা আলমগীর দুই দশকের ক্যারিয়ারে এটাই প্রত্যাশা।