নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শেষ হচ্ছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল বেসরকারি ভবন এবং বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই শোক পালনের শেষ দিনে বাদ জুমা সারা দেশের মসজিদে মসজিদে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এই প্রবীণ জননেতা। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গত বুধবার বিকেলে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়, যেখানে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংস্কারক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পাওয়া এই নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল।