আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পাঁচফোড়ন

শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় ২৭তম অ্যাশেজ সফর ইংল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম ব্যর্থ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের মতে, কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির অধীনে ২০২৫–২৬ অ্যাশেজ ছিল প্রস্তুতি, নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে একেবারেই ভরাডুবির গল্প।

সিরিজের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। পার্থে মাত্র একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাও এমন এক ক্লাব মাঠে, যার উইকেট ও কন্ডিশন ওপটাস স্টেডিয়ামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ওয়াকা স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ না পাওয়াকে ইংল্যান্ড শিবির কখনোই গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে নেয়নি।

নুসা সফরে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত মদ্যপান, হ্যারি ব্রুকের নাইটক্লাব কাণ্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা আচরণ দলের মনোযোগ নষ্ট করেছে। মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক সফরজুড়েই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী ভুল ছিল ফিল্ডিং। বিশেষজ্ঞ ফিল্ডিং কোচ না থাকায় পুরো সিরিজে ১৯টি ক্যাচ মিস করে ইংল্যান্ড, যার ফলে অস্ট্রেলিয়া অতিরিক্ত ৫০০ রানের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফুল-টাইম বোলিং ও উইকেটকিপিং কোচের অভাবও পারফরম্যান্সে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

অলি পোপকে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও একাদশে রেখে দেওয়া এবং জ্যাকব বেথেলকে দেরিতে সুযোগ দেওয়া বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। শেষ টেস্টে বেথেলের সেঞ্চুরি দেখিয়েছে, সুযোগ পেলে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন। জশ টং ও শোয়েব বশিরের মতো খেলোয়াড়দের যথাযথ ব্যবহার না করাও সমালোচনার কারণ।

ব্রিসবেনে স্টোকস ও উইল জ্যাকসের ধীরগতির ব্যাটিং প্রমাণ করে, দল আগের আক্রমণাত্মক বাজবল নীতি থেকে সরে এসেছে। বার্তার অস্পষ্টতা ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব দলের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে।

সব মিলিয়ে, খারাপ পরিকল্পনা, নেতৃত্বের অসঙ্গতি, শৃঙ্খলার অভাব ও ভুল নির্বাচনের সমষ্টিই ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ সফরকে এক ভয়াবহ ব্যর্থতায় রূপ দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিসিসিবি প্রধান রিচার্ড গুল্ড পর্যালোচনা শুরু করেছেন, তবে কোচিং স্টাফ ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এখনো কাটেনি।