মোঃ মোহন আলী।।
জুলাই জাতীয় সনদে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ‘মুছে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা যেন এগুলো (জুলাই সনদ) বাস্তবায়ন করে তার নিশ্চিয়তা বিধান করার জন্য গণভোট। এখন চারটা বিষয়ে বা ৪৮টি বললে আবার কেউ কেউ বলবেন, এতোকিছু। আমি অসংখ্য উদাহরণ দিতে পারি। তিউনিসিয়াতে ২০২২ সালে একটি নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে গোটা সংবিধান জনগণের সামনে উপস্থাপন করে বলা হয়েছিল, আপনার একমত হবেন কী হবেন না। ১৪০টি অনুচ্ছেদ ছিল। আপনার কী মনে হয় ১৪০টি অনুচ্ছেদের ১৩৮ টায় একমত, ২ টায় দ্বিমত; এই কারণে ভোট দেওয়া নিয়ে কেউ কেউ খুব বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন? বড় রকমের সাংবিধানিক পরিবর্তন যখন হয় তখন এরকমভাবেই হয়। তুরস্কে ২০১৭ সালে যে গণভোট হয়েছিল, সেখানে ১৮টি অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করাট কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মূল প্রশ্ন ছিল একটাই; হ্যাঁ অথবা না।’
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আমরা গণভোট করেছিলাম, যার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় এসেছিলাম। তাতে কী কেবল একটা মাত্র অনুচ্ছেদের পরিবর্তন ঘটেছিল? তা তো ঘটে নাই। আমরা কেবল সিম্পল উত্তরটা দিয়েছিলাম। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় টেলিভিশনে বক্তৃতা দিয়ে, সবাইকে অনুরোধ করেছিলেন যেন হ্যাঁ ভোট বিজয়ী করে এবং সেটা বিজয়ী হয়েছিল।
তিনি বলেন, কোনো নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা নেই।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে অনেক তথ্য প্রচার হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না। কেউ কেউ বলছেন, ১৯৭১ মুছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সঠিক নয়। জুলাই জাতীয় সনদ কোনো অবস্থাতেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়নি, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখই নেই। একইভাবে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার ব্যাপারে জুলাই জাতীয় সনদে কোনোরকম উল্লেখ নেই।গণভোটে সেই প্রশ্ন করা হয়নি। যারা বলছেন, তারা হয় ভুল বোঝার কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলছেন অথবা অন্য কোনো কারণে তারা ভুল বলছেন। আমি আশা করি, তারা এই ভুলগুলো বুঝতে পারবেন। তাদের অবস্থান সঠিক করবেন, যদি না অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে। মিথ্যা প্রচারণার বিভিন্ন রকম কারণ আছে, ভুল প্রচারণার কারণ আছে।সেগুলো আপনাদের মোকাবিলা করেই মানুষজনকে বোঝাতে হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থিরভাবে যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিরোধিতা করে কেউ আলোচনায় যেতে চাইলে অবশ্যই পারে। আমরা তো অনেক বিষয়েই একমত হব না। কিন্তু আপনাকে তার থেকে (প্রচার) বিরত রাখতে পারে না। কারণ হচ্ছে, আইনগতভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার ব্যাপারে কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা নেই।