হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ দেবের মন্দির ও আখড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে মন্দিরের বিপুল সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্দিরের নামে দিঘি ও বিস্তীর্ণ জমিসহ উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তি থেকে নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে আয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। বরং এতদিন যারা মন্দির ও আখড়া পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাৎ ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মন্দির ও আখড়ার জমি, দিঘি এবং অন্যান্য সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। সেই অর্থ দিয়ে মন্দির ও আখড়ার সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং পুরোহিত ও যোগীদের ন্যায্য ভাতা প্রদান সম্ভব ছিল। কিন্তু আয় থাকার পরও উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে আছে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের আয় থাকা সত্ত্বেও আমরা নিয়মিত ভাতা পাই না। মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আখড়া, জমি ও দিঘি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে প্রতি বছর অনেক টাকা সঞ্চয় করা যেত। কিন্তু যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা তা করেননি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।”
সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বলেন,জগন্নাথ মন্দির ও আখড়া সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে মন্দিরের সম্পত্তির ওপর কিছু মানুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। পরিচালনার নামে তারা নিজেদের পকেট ভারি করেছেন। অতীতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষা করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।”
হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন,
“ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
স্থানীয়রা জানান, মন্দির ও আখড়ার যেসব সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে অবিলম্বে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে মন্দিরের অবশিষ্ট সম্পত্তিও দখল ও বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, মন্দির সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।