জামালপুর প্রতিনিধিঃ-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ আসনটি ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৩ জন। বিএনপির প্রাার্থী এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সামিউল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৭ জন। এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু এ আসনে বিএনপির মনোনীত দলীয় প্রার্থী হিসাবে বিগত দিনে দুই বার বিজয়ী হয়ে এমপি হয়ে ছিলেন। তার বর্তমান বয়স ৭০ বছর ৮ মাস ২৯ দিন। তিনি এমবিএ করেছন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার কৃষিখাত ও বাড়ী ভাড়া থেকে বার্ষিক কোন আয় নেই। ব্যবসা খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে বার্ষিক আয় ২৫৮ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে আছে ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪৪ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ১লাখ ৯৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। স্ত্রীর নামে শেয়ার আছে ৩০ হাজার। যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি টয়োটা গাড়ী রয়েছে। তার নিজ নামে সোনা আছে ২০ তোলা।
যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে সোনা আছে ২০ ভরি। যার মূল্য তার জানা নেই। বাবুর নিজ নামে ইলেকট্রনিক যন্ত্র আছে ২ লাখ টাকার সমপরিমান। আসবাবপত্র আছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সমপরিমান। এ ছাড়াও সুলতান মাহমুদ বাবুর নামে ঢাকায় একটি ফ্লাট বাড়ী আছে। যার মূল্য ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার নামে সম্পদ ১ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৬ টাকা। স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ৯৮ লাখ ৫ হাজার ১১১টাকা।এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামালপুর-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে বিজয়ী হয়ে ছিলেন।
এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো: ছামিউল হক। তার বতর্মান বয়স ৫৮ বছর ৯ মাস ২৮ দিন। তিনি এমএ ও পিএইচডি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা নেই। তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা ছিলো।কিন্তু সব গুলো মামলায় তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। কৃষি খাত, ব্যবসা, শেয়ার বাজার থেকে তার কোন আয় নেই। চাকুরি থেকে তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকা। ছামিউল হকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা আছে ৮৯ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৩ টাকা। নিজ নামে ব্যাংকে আছে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার উপরে। সঞ্চয়পত্র আছে ৪ লাখ টাকার। নিজ নামে সোনা আছে ৫ ভরি। স্ত্রীর নামে কোন সোনা নেই। ইলেট্রনিক যন্ত্র রয়েছে ১লাখ ৭৫ হাজার টাকার সমপরিমান। ৮০ হাজার টাকার সমপরিমান আসবাবপত্র রয়েছে। তার অর্জনকালিন মোট সম্পদ ১ কোটি ২০ লাখ ১১ হাজার ৯৩৩ টাকা। তার স্ত্রীর নামে কৃষি জমি রয়েছে ২ একর ০২ শতাংশ এবং নিজ নামে জমি রয়েছে ১০.৭৫ শতাংশ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত এমপি প্রার্থী (হাতপাখার) সুলতান মাহমুদ তঁার বয়স ৩৩ বছর। তিনি এম এ পাশ। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। কৃষিখাতম ব্যবসা, শেয়ার তার বার্ষিক কোন আয় নেই। চাকুরিখাতে তার বার্ষিক আয় ১লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের নগদ আছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ব্যাংকে আছে ৯৫ হাজার ৪০১ টাকা। ইলেকট্রিক পন্য ও আসাবাপত্র রয়েছে ৩ লাখ টাকার সমপরিমান। কৃষি জমি আছে ৪৭.৫ শতাংশ। বাড়ী বাবদ আছে ১০ লাখ টাকা।
এ আসনটি একে ধারে ধরে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ১৯৭০,১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী প্রয়াত হাজী রাশেদ মোশাররফ বিজয়ী হন। পরবর্তী একই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি নির্বাচিত হয়ে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফ উদ দৌলা পালোয়ান জাতীয় পার্টি থেকে এমপি পদে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি পদে বিজয়ী লাভ করেন।
বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাই এবার বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেই তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসিররা জানিয়েছেন।