বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কনসার্টের আড়ালে তামাকের প্রচারকারী কোম্পানিগুলোকে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২২, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।।

 

দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা হিসেবে তৈরি করার উদ্দেশ্যে তামাক কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন-তরুণীদের টার্গেট করছে। এই কাজে তাদের সহায়তা করছে কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এ ধরণের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় কোম্পানিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কনসার্টের আড়ালে তরুণদের তামাক সেবনে উৎসাহিত করছে। যা সরকারের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রচেষ্টার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। কনসার্টের আড়ালে তামাকের এ ধরণের আগ্রাসী প্রচার ও প্রসারে সহায়তাকারী সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোকে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

 

বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ এর ধারা ৬ (খ) অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যর বিক্রয় নিষিদ্ধ। এছাড়াও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ব থেকেই পাবলিক প্লেসের অর্ন্তভুক্ত এবং পাবলিক প্লেসে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাক কোম্পানি তরুনদের সিগারেট ও ই-সিগারেটে আসক্ত করতে এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ”স্পিরিট অব জুলাই”নামক একটি প্লাটফর্মের উদ্যোগে আইন লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরণের কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিকই নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দীর্ঘ সময়ধরে নানাভাবে আইন লঙ্ঘন করেও কোন ধরণের শাস্তি না হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জাপান টোব্যাকো কোম্পানি (জেটিআই) এবং আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানী তরুণদের টার্গেট করে এধরণের কর্মসূচীগুলো আয়োজন করছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নৈতিকতার শিক্ষা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ এখানে কনসার্ট এর আড়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধূমপানকে স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় করে তোলার অপচেষ্টা চলমান রয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা এবং আইন অনুসারে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসমুহে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, প্রচার, স্পনস, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিতরণ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।