জামায়াতের নারী কর্মীদের পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করলেন বেরোবি ছাত্রদল নেতা

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

 

বেরোবি প্রতিনিধি।।

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা। তার এ মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির সভাপতি এম সুমন সরকারের করা ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সহ-ভাপতি তুহিন রানা এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি “জামায়াতে নারীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নারী জামায়াতের মহাসমাবেশ” শীর্ষক একটি নিউজ শাখা শিবির সভাপতি ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করা হলে, সেখানে কমেন্টে তুহিন রানা লেখেন, “ওই সমস্ত মহিলাদের দেখলে ভয়‌ও লাগে, কালো রঙের পোশাক। কেমন জানি ভূতের মতো। নারীদের দিয়ে প্রচারণা করার প্রবণতা এত কেন?”
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বেরোবি শিবিরের সভাপতি এম সুমন সরকার বলেন,
নারী জামায়াতের নেত্রীরা বলছেন, নারীদের পর্দা ও পোশাককে ‘ভূত’ বলে কটাক্ষ করা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী নয়, বরং এটি স্পষ্টভাবে নারীর মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তারা দাবি করেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেরোবির নারী শিক্ষার্থী হাসনাহেনা মিম বলেন,পর্দা একজন নারীর ধার্মিকতার প্রতীক। এ পোশাক নিয়ে সমালোচনা করা কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়। একজন মানুষ কখনো বলতে পারে না পর্দাশীল মেয়ে ভূতের মতো দেখতে। এমন মন্তব্য কখনো সমাজে সমীচীন নয়। আপনারা দল নিয়ে সমালোচনা করতেই পারেন কিন্তু কোন মেয়ের পোশাক নিয়ে করতে কটুক্তি পারেন না। এটি নারীর নিজস্ব চয়েজ। ইসলামে পর্দা করা নারীদের জন্য ফরজ কাজ।

বেরোবি ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। আমাদের সংগঠন সব সময় নারীদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করে ৷ তিনি যদি কোন মন্তব্য করে থাকেন তাহলে সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।