স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা–১৪ আসনের মানুষকে আর জিম্মি করে রাখা যাবে না
চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি।
ঢাকা–১৪ আসনে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের রাজনীতির অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,“ঢাকা–১৪ আসনের মানুষকে আর জিম্মি করে রাখা যাবে না। চাঁদাবাজ-দখলদারের সাথে কোনো আপস নয়। জনগণের সম্পদ, ব্যবসা, জমি বা রাস্তা দখল করে যারা ভয় দেখায়, চাঁদা তোলে—তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান কঠোর। দখল-চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভাঙতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনগণের পক্ষে কঠোর অবস্থান ২৮ জানুয়ারি বুধবার বেলা ১২ টা থেকে উত্তর পাইকপাড়া, দক্ষিণ পাইকপাড়া, কল্যাণপুর,বটতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে তুলি বলেন, এই আসনের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। বাজার, ফুটপাত, পরিবহন, নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে ছোট দোকানদার পর্যন্ত চাঁদার বোঝা বহন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন,“একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে এই দখলদার চক্র ভাঙতেই হবে।”
দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধই মূল বিবেচনা তুলি জানান, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না।
“সে আমার দলের হোক, অন্য দলের হোক—অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
তার এই বক্তব্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর কেউ সাহসের সঙ্গে দখল-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছেন।
মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স চাঁদাবাজির পাশাপাশি মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন তুলি।
তিনি বলেন, “যুব সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক। মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।”উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুধু অপরাধ দমন নয়, তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন বাজার ও ফুটপাতের শৃঙ্খলা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা তরুণদের কর্মসংস্থান
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন।
তুলি বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করি না, বাস্তব কাজ করতে চাই। জনগণের সঙ্গে থেকেই সমস্যার সমাধান করবো।”
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তুলি ইতোমধ্যে মানবিক নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তার সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।
ভোটারদের প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা এমন একজন প্রতিনিধিকে চান, যিনি এলাকায় থাকবেন, মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং দখল-চাঁদাবাজি বন্ধ করবেন। অনেকেই মনে করছেন, তুলির সাহসী অবস্থান ঢাকা–১৪ আসনের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।
শেষ বক্তব্যে তুলি বলেন,
“আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য রাজনীতি করি। ঢাকা–১৪ হবে নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নয়নের মডেল এলাকা—এটাই আমার অঙ্গীকার।” তিনি রাত ৮ টায় নতুন বাজারে ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
মিরপুর থানা বিএনপির সাবেক নেতা একে এম লুৎফুল বারী মুকুলের সভাপতিত্বে এবং ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ স্বপনের সঞ্চালনায়।
উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক গাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ১১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য শামীম পারভেজ, শাহাআলী থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ রওশন, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আইয়ুব আলী, হাবিবুর রহমান হাবিব,১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন, মুনছুর আলম,হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ রাকিব, রাসেল আহমেদ প্রধান, আরিফুল ইসলাম রিপন, গোলাম মোস্তফা,রাজু আহমেদ রাজু, সাজেদুল করিম ডাবলু, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, আবুল হাসেমসহ ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।