ফেব্রুয়ারি আমার জন্য মর্যাদা, গর্ব ও বেদনার মাস — তুলি

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার:
ভাষা সৈনিকের কন্যা থেকে গুমের শিকার ভাইয়ের বোন, এবার সংসদে ন্যায়বিচারের কণ্ঠ হতে চান প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি।

ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালির হৃদয়ে জেগে ওঠে ভাষার গৌরব, আত্মত্যাগ আর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্মৃতি। আর এই মাসটি ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলির জীবনে বহন করে ভিন্ন এক আবেগ—গর্ব, মর্যাদা এবং গভীর বেদনার মিশ্র স্মৃতি।
তিনি বলেন,
“ফেব্রুয়ারি মাস আমার জন্য শুধু ইতিহাস নয়, এটি আমার পরিবারের রক্তে লেখা স্মৃতি। এটি গৌরবের, আবার কষ্টেরও মাস।” ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সোমবার এক বিবৃতিতে আরোও বলেন,
ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার
তুলির পিতা মরহুম হাজী মফিজুল ইসলাম ছিলেন মহান ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি সরাসরি অংশ নেন। ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনা পরবর্তীতে তার পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে।
এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তেজগাঁও শাহীনবাগে তাঁর নামে একটি সড়ক নামকরণ করা হয়েছে।
শুধু ভাষা আন্দোলনেই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এলাকায় একজন সৎ, জনদরদী ও সাহসী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবেক ৩৮, বর্তমান ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা ও মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখেন।
তুলি বলেন,
“আমার বাবা ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। মানুষের দুঃখ-কষ্টই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
বাবার পথের উত্তরসূরি, তারপর অন্ধকার
পিতার মৃত্যুর পর সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তার মেঝ ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন। অল্প সময়েই তিনি এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সুমনসহ আটজনকে তুলে নেওয়া হয়। তারপর থেকে তারা নিখোঁজ—আজও কেউ ফিরে আসেনি।
এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাননি তুলি।
কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,
“এক যুগ হয়ে গেলো, আজও আমার ভাই ফিরে আসেনি। প্রতিটি দিন আমাদের পরিবারের জন্য অপেক্ষার দিন।”
‘মায়ের ডাক’ থেকে মানবিক সংগ্রাম
নিজের ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই তিনি গড়ে তোলেন ‘মায়ের ডাক’—গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিখোঁজদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক সংগঠন।
তিনি জানান,
“যে কষ্ট আমি অনুভব করেছি, সেই কষ্ট যেন আর কোনো মা-বোনকে না পেতে হয়—এই লক্ষ্যেই ‘মায়ের ডাক’।”
তিনি স্মরণ করেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ব্যারিস্টার আরমানকেও গুম করা হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকার পর তিনি ফিরে আসেন। সেই কঠিন সময়ে তার পরিবারকে সাহস ও সহায়তা দিয়েছেন তুলি ও ‘মায়ের ডাক’।
“তিনি ফিরে এসেছেন—এটা আমার জন্য আনন্দের। কিন্তু আমার ভাই আজও ফেরেনি,”—কণ্ঠে ঝরে পড়ে না বলা বেদনা।
সংসদে ন্যায়বিচারের কণ্ঠ হতে চান

তুলির প্রত্যাশা, নির্বাচিত হলে সংসদে দাঁড়িয়ে গুম ও নিখোঁজদের বিষয়ে জোরালোভাবে কথা বলবেন।
তিনি বলেন,
“আমি শুধু একজন প্রার্থী নই, আমি একজন ভাষা সৈনিকের সন্তান, একজন মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি এবং একজন গুম হওয়া ভাইয়ের বোন। সংসদে গিয়ে আমি আমার ভাইসহ যারা ফিরে আসেনি—তাদের জন্য কথা বলতে চাই।”
ভোটারদের প্রতি আবেদন

ঢাকা–১৪ আসনের ভোটারদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“একজন মহান ভাষা সৈনিকের সন্তানের প্রতি সমর্থন ও ভোট দিয়ে পাশে থাকবেন। আপনাদের সমর্থনই আমাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেবে।”
ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আর গুম হওয়া স্বজনের বেদনা—এই তিন শক্তিকেই নিজের রাজনীতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন তুলি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই ব্যক্তিগত ইতিহাস ও মানবিক সংগ্রাম ভোটারদের হৃদয়ে বিশেষ সাড়া ফেলবে।