তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরী

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।।

তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছেন। এই অধ্যাদেশটি শিশু, কিশোর, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষকে অসংক্রামক রোগ ও তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। সার্বিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতির জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরী। আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ১১.০০ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর “শফিকুল কবির” মিলনায়তনে “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), ডিআরইউ, ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস্) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সন্মানিত অতিথি ও আলোচকবৃন্দ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কনসালটেন্ট (IMBRTF) জনাব হোসেন আলী খোন্দকার, ডিআরইউ এর সভাপতি জনাব মো: আব্দুস সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: মাইনুল হাসান সোহেল, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ জনাব. শাগুফতা সুলতানা, টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল এর সদস্য সচিব, জনাব মোঃ বজলুর রহমান, কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি নিখিল চন্দ্র ভদ্র, একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাস এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রেগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ মোট মৃত্যুর ৭৩% এর কারণ অসংক্রামক রোগ। অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহারে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময়কালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি প্রণয়ন করা হয়। যা বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আমাদের প্রত্যাশা নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ জনগনের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠান থেকে ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদানের আহবান জানানো হয়।

বক্তারা আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহবান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), নাটাব, বিইআর, নবনীতা, কেএইচআরডিএস, কসমস, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, ডরপ এবং উবিনীগ এর প্রতিনিধিবৃন্দ।