উপজেলা প্রতিনিধি:শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)।।
শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এই উপজেলা লেবু ও আনারসের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি মৌসুমে আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০–১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০–১০০ টাকা দরে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।
বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, “চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
অপর বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫–৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০–১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বি দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মাসুম আহমদ বলেন, “শ্রীমঙ্গল লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।”
লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০–৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০–১৫টির বেশি ফলন নেই।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। লেবু চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের সমন্বয়ে গত বুধবার সকালে বাাজর মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে আমরা খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।