শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজন বৈশাখী উৎসব ও লোকজ মেলা

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

 

বিকুল চক্রবর্তী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ১৪ই এপ্রিল থেকে ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শিশু উদ্যান প্রাঙ্গণে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসবে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে থাকছে জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী রোক্সার রহমান ও মৌসুমি চৌধুরীর একক সংগীতানুষ্ঠান এছাড়াও এশিয়া উপমহাদেশের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী লালন কন্যা “ডলি মন্ডল ও তার দলের একক সংগীত পরিবেশনা। আরো থাকছেন সিলেট থেকে আগত প্রতিভাবান বাউল শিল্পী বিরহী কালা মিয়া ও তাঁর দল, এবং একক সংগীতানুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন তারেক ইকবাল চৌধুরী, সুমিত পাল, নিশা ব্যানার্জী ও শুভ দাশ।

এছাড়াও থাকছে সিলেটের ত্রিমাত্রা ব্যান্ডসহ শ্রীমঙ্গল ব্যান্ড এসোসিয়েশনের বিভিন্ন ব্যান্ডের পরিবেশনা।

উৎসবের ৭ দিনে শ্রীমঙ্গলের নানা সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শিল্পীরা অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
সম্মিলিত বাউল পরিষদ, সৎসঙ্গ স্বরলিপি সংগীত বিদ্যালয়,
কালিঘাট চা বাগান সংগীত একাডেমি, চতুরঙ্গ শিল্পকলা নিকেতন, নাট্যবেদ, আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, বারিধারা শিল্পীগোষ্ঠী, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, শিহরণ, আদর্শ সংগীত বিদ্যালয় (সুরজবাগ শাখা), সপ্তক সংগীত পরিবার, শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়, আর.এ ডান্স ক্লাব, টিউনস মিউজিক্যাল একাডেমি, সুরাঙ্গন সংগীত বিদ্যালয়, বর্ণমালা সংগীত বিদ্যালয়, সুরধারা সংগীত বিদ্যালয়, নৃত্যাঙ্গন, শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমি, শৈলজা সংগীতালয়, শ্রীমঙ্গল আবৃতি উৎসব, অনুরাগ মণিপুরি নৃত্যালয়, ফাগুন সংগীত বিদ্যালয়সহ আরও অনেক সংগঠন।

এছাড়া আয়োজনের অংশ হিসেবে কলেজ থিয়েটার, বাংলাদেশ চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফন্ট সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কাঁচি-কাঁচার মেলা, শ্রীমঙ্গল জনতা থিয়েটারের পরিবেশনে নাটক ‘বৈশাখী হাওয়া’ এবং যাত্রাপালা “বাগদত্তা সুরমা অপেরা, মৌলভীবাজার” মঞ্চস্থ হবে।

উৎসবের শেষ দিন ২০ এপ্রিল আলোচনা সভা, অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান, গুণীজন সম্মাননা ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে। পরে আকর্ষণীয় সংগীতানুষ্ঠান এবং লাকি কুপন ড্র’র মাধ্যমে সাতদিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

উপজেলা জাসাস আহবায়ক জনাব, মাহবুবুর রহমান লিংকন জানান, বৈশাখের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।