হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা , উজিরপুরে মামলার মোড় ঘুরে ভুক্তভোগীরাই অভিযুক্ত

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

 

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের উজিরপুরে মসজিদের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার পর পাল্টা মামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক সাংবাদিকের পরিবারসহ গড়িয়া গ্রামের একাধিক পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গড়িয়া নতুনহাট বাজারে বায়তুল আমান জামে মসজিদের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল গোমস্তার কাছে হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদ কমিটির সদস্য ও দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুল হক গোমস্তা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরপরই আহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম ওইদিন রাতেই উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগটি এসআই জাহাঙ্গীর গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হলেও ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ—পরবর্তীতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি আমলে না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করেন এবং একটি কপি অনলাইনে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে, পরদিন ৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্টো একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আহত সাংবাদিক আসাদুল হক গোমস্তাকেই এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলায় আসাদুল হক গোমস্তাসহ আব্দুল্লাহ আল আজিম, ইয়াসিন হাওলাদার, ফাহিম হাওলাদারসহ এলাকার কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, থানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল এবং হামলাকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আহত আসাদুল হক গোমস্তা একজন গণমাধ্যমকর্মী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় তিনি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করেছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।