১৫ এপ্রিলের মধ্যে এলপিজি-এলএনজি নিয়ে দেশে আসছে পাঁচ জাহাজ

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে অন্তত ৫টি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে এসব জাহাজ আগমনের ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ কমবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ যা সিলিন্ডারে ভরে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে এবং যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বহনযোগ্য হওয়ায় পাইপলাইন বিহীন এলাকায় গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনে প্রধান ভরসা।

অন্যদিকে এলএনজি হলো অতিশীতল প্রাকৃতিক গ্যাস যা মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড় বড় শিল্প কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার কারখানা, টেক্সটাইল ও সিরামিকের মতো ভারী শিল্পে উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এটি সরবরাহ করা হয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী ট্রাকের জ্বালানি হিসেবেও এলএনজির ব্যবহার হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৪৭০ টন কার্গো নিয়ে মর্নিং জেলি নামের একটি এলপিজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ইএমইআই নামের একটি জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর ১১ এপ্রিল একই টার্মিনালে প্রায় সমপরিমাণ এলএনজি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কংটং নামের আরেকটি জাহাজ আসবে। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে পল নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। তালিকায় থাকা ম্যারান গ্যাস হাইড্রা ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪ হাজার ৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এক সপ্তাহে পাঁচটি জাহাজের আগমনের ঘোষণা পাওয়া গেছে এবং সেগুলো বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ৮ এপ্রিল রাতে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে এমটি সেন্ট্রাল স্টার নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। পরদিন ৯ এপ্রিল বিকেলে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করার পর শুরু হয় অকটেন খালাসের কার্যক্রম। এছাড়া একই রাতে মালয়েশিয়া থেকে উচ্চ সালফারযুক্ত ফুয়েল অয়েল নিয়ে ইস্টার্ন কুইন্স নামের আরেকটি ট্যাংকারও বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতেই ২ ও ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে যথাক্রমে ৬৯ হাজার ৮৮১ টন এবং ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন এলএনজি দেশে এসেছে, যা জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (এলএনজি) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, এপ্রিল মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে এবং খালাস প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে গড়ে ৬৯ হাজার থেকে ৭০ হাজার টন গ্যাস বহন করা হয়।