খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি) বলেছেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও সংস্কার না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আজ শনিবার বিকেলে মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামে জিয়া খাল পুন:খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। খাল পুন:খনন উদ্বোধন উপলক্ষে বলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, খাল পুন:খননের কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করা হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় সেচব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকার পরিকল্পিতভাবে খাল পুন:খনন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, খাল খননের পাশাপাশি এর পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে; যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য এই কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মাও. মো. তাজউদ্দীন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কামরুল হাসান প্রমুখ।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাজাহান সিরাজ, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহেদুল ইসলাম, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাইম কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১শ’ মিটার জিয়া খাল পুন: খননের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। ঐতিহাসিক সেই উদ্যোগের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনরায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।