বাংলার সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্ম ও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান রাব্বি

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।। 

বাংলার ভাষা, পোশাক, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আধুনিক ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে চান নাট্যকর্মী ফারহান রাব্বি। একই সঙ্গে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ফারহান রাব্বির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নকশা, সংগীত, শিল্প ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে একটি বিশেষ ফ্যাশন শোর মাধ্যমে। তার লক্ষ্য, আয়োজনটিকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল অনুপ্রেরণার মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি মনে করেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নিজেদের শিকড়, ভাষা, ইতিহাস, পোশাক ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আর সেই ভাবনা থেকেই বাংলার সংস্কৃতিকে নতুন সময়ের উপযোগী করে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

ফারহান রাব্বি বলেন, “নতুন প্রজন্ম যেন আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়, ভাষা, ইতিহাস, পোশাক ও ঐতিহ্যকে জানতে এবং ভালোবাসতে শেখে—এটাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।”

তার পরিকল্পনায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে সমকালীন ফ্যাশন, নান্দনিক উপস্থাপনা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করে এমন একটি আয়োজন করার প্রত্যাশা রয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি করবে।

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলার সংস্কৃতিকে পরিচিত করে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে এই উদ্যোগের পেছনে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির মানুষের সামনে বাংলার ঐতিহ্য, পোশাক, শিল্প ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার স্বপ্ন দেখছেন ফারহান রাব্বি।

তার ভাষায়, বাংলার সংস্কৃতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চান, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন এবং এর সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারেন।

ফারহান রাব্বি জানান, দীর্ঘদিন ধরে লালন করা এই স্বপ্ন ইতোমধ্যে একটি সুপরিকল্পিত আয়োজনের রূপ পেয়েছে। এখন সেটিকে বাস্তবায়নের অপেক্ষা। নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই তার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “শিকড়কে ভুলে নয়, শিকড়কে সঙ্গে নিয়েই নতুন যুগের পথে এগিয়ে যাবে বাংলা—এটাই আমার স্বপ্ন।”

এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা তুলে ধরার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।