সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে : রিজভী

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো সাংবাদিকরা সত্যনিষ্ঠা, নীতিবোধ ও আদর্শে বলীয়ান ছিলেন। তাদের দৃঢ় অবস্থান ও সাহসিকতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রজীবনে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় গিয়াস কামাল চৌধুরীর সংবাদ ও বক্তব্য শোনার জন্য তারা অপেক্ষা করতেন। বিশেষ করে ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালের আন্দোলনের সময় বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে জানার সুযোগ হতো।

তিনি বলেন, ওই সময় গিয়াস কামাল চৌধুরী মানুষের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তার সংবাদ পরিবেশন ও বক্তব্য আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাকে গ্রেফতারের খবরও তখন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন ন্যায়নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল একজন মানুষ। তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলেও তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত বা কেনার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

স্মরণসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বক্তব্য রাখেন।

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন মানুষের সাংবাদিক। মানুষের প্রতি দরদ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবিক মূল্যবোধের কারণে তিনি সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

গিয়াস কামাল চৌধুরী কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেননি। বরং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনে খোঁজ নেওয়াই ছিল তার স্বভাব।

প্রখ্যাত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য ও সৎ সাংবাদিককে হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ হারিয়েছে একজন দেশবরেণ্য ও সৎ সাংবাদিককে। আর আমি হারিয়েছি আমার সারা জীবনের বন্ধুকে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও গীতিকার নাহিদ নজরুল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

জাতির সংবাদ/শা