জীবন যেখানে বিপন্ন,লজ্জা সেখানে তুচ্ছ

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৬ নং বোকাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ মাসুদ আলম ভুইয়া একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং পেশায় একজন সাংবাদিক। বয়স তেমন না হলেও সর্বদাই রয়েছে তাঁর পারিবারিক দুশ্চিন্তা কারন সমস্যা আর যত্নের অভাবে মানুষ তারাতারি বুড়ো হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিন সন্তানসহ তাঁর পরিবারে সাতজন সদস্যের ভরনপোষণ ও দুই সন্তানের পড়ালেখা এবং বাবা, মা দু’জনের অসুস্থতার জন্য খরচাদি তাঁর সামান্য উপার্জনের পথে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের বেশিরভাগ সময় অসুস্থ বাবা মায়ের চিকিৎসায় যে, অর্থ প্রয়োজন সেই অর্থ তাঁর উপার্জন হলেও দৈনন্দিন বেঁচে থাকার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাওয়া দাওয়ায় চলে যায়। কঠিন বিপদে ধারকর্জও কেউ কাউকে দিতে চায় না আর গরিব হলে তো কতো অসুবিধা। এমন অবস্থায় বাবা,মায়ের চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ কিভাবে যুগাবেন মাসুদ আলম! গ্রামে থাকার মতো ভিটেমাটি থাকলেও সেখানে নেই কোন বাসস্থান কারন আজকের দিনে একটি টিনের চালা ঘর তৈরি করতেও যথেষ্ট অর্থ প্রয়োজন যা তাঁর পক্ষে যোগার করা অসম্ভব। অপারগ হয়েই তিনি পাশ্ববর্তী মামুদনগর গ্রামে খালাতো ভাইয়ের বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

মাসুদ আলম বলেন, গৌরীপুর আসার আগে তিনি ঢাকায় একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা ম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আর সেখান থেকে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু হয়। নিজের জন্য আজ পর্যন্ত কারো সহযোগিতার দারস্থ হননি তিনি। কিন্তু সন্তান হয়ে যদি বাবা মায়ের অসুস্থ অবস্থা থেকে শেষ রক্ষাও না করতে পারেন তবে তাঁর এই মহান পেশা সাংবাদিকতার স্বার্থতা কোথায় ! তিনি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে জাতির সামনে তাঁর সমস্যাদি তুলে ধরেছেন । এ প্রতিবেদকের নিকট কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগ আপ্লূত হয়ে যান এবং বলেন সব সন্তানই চায় তাঁর বাবা,বেঁচে থাকুক তাই চেষ্টা করতে কোন বাঁধা নেই । তিনি এও বলেন, এখনও পৃথিবীতে বহু দানশীল ও বিবেকবান মানুষ রয়েছেন বলেই পৃথিবী আজও টিকে আছে। তাই তিনি বিত্তবান ও সুশীল সমাজের মানুষের কাছ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।