জাতির সংবাদ ডটকম।।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবি পার্টি। একই সঙ্গে এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা চালুর ফলে দীর্ঘদিনের ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সংস্কৃতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। এখন সেই ব্যবস্থা বাতিল করে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে আবারও বাণিজ্য, অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে।
তারা বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনো ব্যক্তিগত বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের এখতিয়ার হতে পারে না। একজন শিক্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, এনটিআরসিএর কার্যক্রমে কোনো সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে একটি কেন্দ্রীয় ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল করে পুরোনো ম্যানেজিং কমিটি-নির্ভর ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সকল উত্তীর্ণ সনদধারীকে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। তাদের চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এবি পার্টি মনে করে, শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, তদবির, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ না করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আরও শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছে এবি পার্টি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের দরজা মেধাবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে, অর্থ ও প্রভাবশালীদের জন্য নয়।