ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও আগুনে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন: টুকু

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে একটি দুর্ঘটনার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যে বিঘ্ন ঘটে। ফলে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে কিছুটা সময় লেগেছে। জ্বালানি কেনার পরও তা দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে এফএআরইউতে আগুন লাগার ঘটনাও সরবরাহে বিলম্বের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, এসব জটিলতা কাটিয়ে এখন জ্বালানি সরবরাহের লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে জ্বালানি দেশে আসছে। এ ধরনের সাময়িক পরিস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে জনগণকে যে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ আস্থা রেখে সরকারকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লেগেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়েছে এবং সরবরাহের সময়সূচিও ঠিক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের সমস্যা না হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, সে জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেনি। জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা হয়েছে এবং বেশি দাম দিয়েও গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে নতুন কোনো সমস্যা তৈরি না হলে পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিতে উদ্যোগ নেওয়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জনগণ যাতে আর জ্বালানি সংকটজনিত ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।