ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে রাতের আঁধারে কিশোরদের আড্ডা, সরেজমিনে উপজেলা-পৌর প্রশাসন

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে রাতে বখাটেদের আড্ডা বসে—আইনশৃঙ্খলা সভায় এমন অভিযোগ ওঠার পর সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শনে গেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের একটি দল। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার পর কয়েকজন কিশোর-তরুণকে মাঠের গ্যালারির সামনে ও পেছনের অন্ধকার স্থানে বসে থাকতে দেখা যায়।

বুধবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় মাঠের গ্যালারির সামনে-পেছনের বেশ কিছু অংশ ছিল অন্ধকার। সেখানে কয়েকজন কিশোর-তরুণ বসে ছিলেন। কারও হাতে ছিল মোবাইল ফোন। তাদের সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেনি তারা।

প্রশাসনের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কেউ কেউ ভবিষ্যতে রাতে এভাবে অন্ধকার স্থানে বসে থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার কেউ জানায়, ওই দিনই প্রথমবার সেখানে এসেছিল। ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চায় তারা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি বা শাস্তির আওতায় না নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। রাতের বেলায় অযথা বাইরে না থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে রাতের বেলায় কিশোর-তরুণদের আড্ডা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলে রাতে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে মাঠে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রাতের এ পরিদর্শন শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরদের নিরাপদ রাখা, তাদের ভুল পরিবেশ থেকে দূরে রাখা এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করে তোলার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন খোলা জায়গা ও মাঠে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোর-তরুণদের আড্ডা বসার প্রবণতা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার ও নির্জন স্থানে রাতের বেলায় কিশোরদের অবস্থান তাদের নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, কিশোরদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে প্রথমে তাদের বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠানো এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সচেতন করা জরুরি। একই সঙ্গে রাতের বেলায় বিদ্যালয় মাঠসহ জনসমাগমের স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের রাতের এ অভিযানে একটি বিষয়ই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—কিশোরদের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া নয়, বরং তাদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা ও সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দেওয়াই বড় দায়িত্ব।