তেজগাঁও কলেজ থেকে নয়, জঙ্গি সন্দেহে মসজিদ থেকে আটক ২৩

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

 

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক:

তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

তবে আটক ব্যক্তিদের সাথে তেজগাঁও কলেজের কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা সবাই বহিরাগত বলে জানিয়েছে কলেজ প্রশাসন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তেজগাঁও কলেজ থেকে নয় বরং তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে সন্দেহজনকভাবে ২৩ জনকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তেজগাঁও কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কলেজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রশাসনের বক্তব্য, মসজিদ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে যে কেউ নামাজ পড়তে পারেন। ওই মসজিদে আটক ব্যক্তিরা কলেজের শিক্ষার্থী নন এবং তারা বহিরাগত।

কলেজ প্রশাসন আরও বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে তেজগাঁও কলেজকে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। বিষয়টি নিয়ে দেশের সকল গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশিত কিছু সংবাদে ঘটনাটিকে তেজগাঁও কলেজের অভ্যন্তরে বৈঠক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তেজগাঁও কলেজ মসজিদ ইবাদতের জন্য কলেজের আলাদা একটি অংশ, যা সব মুসল্লির জন্য উন্মুক্ত।

ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট হিসেবে তারা জানায়, জুমার নামাজ শেষে কয়েকজন ব্যক্তি কলেজের প্রধান মসজিদে অবস্থান করছিলেন। তারা সাধারণ মুসল্লি হিসেবে নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন বলে মসজিদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়েছিলেন। নামাজ শেষে খাবার গ্রহণ করে তারা চলে যাবেন বলেও জানা যায়।

পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মসজিদ অংশ ঘেরাও করে ওই ব্যক্তিদের আটক করে নিয়ে যান।

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তেজগাঁও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছে তারা।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কমিটি আরও জানায়, তেজগাঁও কলেজের কোনো শ্রেণিকক্ষ, অফিস, বিভাগ বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্থানে আটক ব্যক্তিদের বৈঠক করা অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এমনকি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মসজিদের স্টাফদের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

এ বিষয়ে তেজগাঁও কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কমিটির বক্তব্য, ঘটনাটিকে তেজগাঁও কলেজে বৈঠক করা অবস্থায় আটক বা কলেজ প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর ও অনভিপ্রেত। কলেজ মসজিদ একটি পৃথক ধর্মীয় উপাসনাস্থল এবং সেখানে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইবাদতের জন্য আসেন।

তেজগাঁও কলেজ কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরনের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নিষিদ্ধ সংগঠন ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দৃঢ় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা জানিয়েছে তারা।

প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যম ও ব্যক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেজগাঁও কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তেজগাঁও কলেজ মসজিদ কমিটি।