সাধনা মহলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবি জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তির

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‎‘জুলাইয়ের রক্তে ভেজা আদালত কার—ইনসাফের নাকি গণহত্যাকারী আওয়ামী দোসরদের?’—এই শিরোনামে সংবাদ সম্মেলন করেছে জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও পুলিশ, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পতিত আওয়ামী সরকারের ‘দোসরদের’ প্রভাব এখনো রয়েছে। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাধনা মহলকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা ১১টি মামলায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ২৩ আগস্ট ২০২৬ সিএমএম আদালত-১৪ থেকে সাধনা মহলকে ঢাকার বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পরও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

‎বক্তারা আরও দাবি করেন, জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতির কাজ এখনো শেষ হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যা, গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখার অভিযোগগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধনা মহল জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। শহীদদের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন আয়োজকরা।


সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি
‎১. আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাধনা মহলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি বা খারিজের উদ্যোগ নেওয়া এবং এ বিষয়ে আইন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি।
‎২. স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে সাধনা মহলের পাসপোর্টের ওপর থাকা ব্লক তুলে নেওয়া এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে পুনরায় ব্লক না করার দাবি।
‎৩. সাধনা মহলের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলাসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক হয়রানি বন্ধে আইনমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি।
‎৪. এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথিত অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ইআরডির মাধ্যমে অনুরোধ জানানোর দাবি।
‎৫. ফ্যাসিস্ট রেজিমে সংঘটিত গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ‘আয়নাঘরে’ বন্দিত্ব, শহীদ হাদী হত্যাসহ জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি।
‎৬. সচিবালয়, আদালত, পুলিশ, গণমাধ্যম ও বিদেশি সংস্থাগুলোকে পতিত আওয়ামী সরকারের কথিত দোসরদের প্রভাবমুক্ত করার দাবি।

‎সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা প্রধানমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি—আমরা প্রতিশোধ নয়, ইনসাফ চাই।