।। সৈয়দা রাশিদা বারী।।
বেশি দেশ প্রেমে ভেজাল, বেশি ধর্ম পালনে ভেজাল! বেশি কথা বলা, বেশি খাওয়া, বেশি ঘুমানো সব বেশিই খারাপ। তাই মূলত স্বাভাবিকই ভালো। আর পুরুষের ক্ষেত্রে সব পুরুষ খারাপ নয়। ভালো চরিত্রবান পুরুষও আছে। আছে মানবতা শীল পুরুষও পৃথিবীতে। কিন্তু নারীর অবস্থা কি? নারীরা ধৈর্যশীলও পুরুষের অধিক। সেই হিংস্র জাতিকে নিয়ে যখন পুরুষ দুই নাম্বারি জালিয়াতি করে। নারীর ঠকাই নারীর জীবনের ওপর চড়ে বসে। নারীর মনের কোন গুরুত্ব মূল্যায়ন না করে, নারীর ইচ্ছার কোন সম্মান না দেখিয়ে, নারীর ভারসাম্যর কোন বুঝ না বুঝে, পুরুষত্ব খাতায়! তখন তো পুরুষের উপরও নারীর বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকবেই।
এটাই তো স্বাভাবিক। একতরফা কোন কিছুই করা ঠিক নয়। পুরুষের আসলে নারীর উপরে চাপিয়ে দেয়া অযৌক্তিক কর্মকা-গুলো বৃহত্তর অন্যায়। নারীদের নিয়েও তাদের সমস্যা অসমস্যা প্রয়োজন অপ্রয়োজন ইত্যাদি পরামর্শ করে নারী-পুরুষের দাম্পত্য সুযোগ-সুবিধা সাব্যস্ত না করাটাই ভুল। মূল সমস্যাগুলোর এটাই কারণ। এখানে আমি কিন্তু মহান স্রষ্টা আল্লাহ এবং প্রিয় নবীজি, প্রিয় পবিত্র ধর্মের কথা কিছু বলছি না। যাপিত জীবনের মানব সত্তার সমস্যা অসমস্যার কথাটাই বলছি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি। মানুষ সামাজিক জীব। দৈনন্দিন চাহিদা মানবিক প্রয়োজন আর সৃজনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ সমাজের মূল শর্ত। নারী-পুরুষের সান্নিধ্য লাভ এবং যাপিত জীবন সম্পর্কে বিশ্লেষণ গবেষণা এটাও তুচ্ছ খেলার বিষয় নয়।
সব মিলিয়ে মানব সত্তাই মনুষ্যত্বের প্রমাণ। একজন মানুষ হতে দুইটি বিষয় লাগে। মান এবং হুস। যেকোনো একটা না থাকা মানে মানুষ নয়। দুটো মিলিয়েই মানুষ। আর মানুষ বলতে শুধু পুরুষ নয়। নারীও। অতএব মান এবং হুশ পুরুষ নারী উভয়েরই সমপরিমাণ থাকতে হবে। কারো মধ্যে সামান্য কম থাকলেও সে সম্পূর্ণ মানুষ নয় প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীরও অনেক ধারা। শরীরের প্রত্যেক অঙ্গের যেকোনো একটা অঙ্গের ঘাটতি থাকা মানেই সেই অঙ্গের সে প্রতিবন্ধী। মানুষ সাধারণত কারো মাথায় কোন বুঝা বইতে দিতে, আগে চিন্তা করে দেখা উচিত তার দারা সেই বোঝাটা বহন করা আদৌ সম্ভব কিনা? আর এটার নামই বিবেক জ্ঞান। বিবেকের আদালতে উঠিয়ে যাচাই-বাছাই কলা এবং ন্যায় অন্যায়ের হিসাব মিলানো। জ্ঞানের দাড়িপাল্লা দার করিয়ে দেখতে হবে সেটা দ্বারা বাটখারা কোন দিকে গড়ায়। মানুষ তার ঘাড়ের বোঝা বয়ে চলতে পারা সম্ভব কিনা, জানাটাই বড়ড়।
বোঝা মাথায় চাপিয়ে পাঠিয়ে দেওয়াটাই বিষয় নয়। সে বহন করতে পারছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা বহনকারী বোঝাটি বহন করতে পারছে কিনা, বিবেকের জায়গা থেকে সেটাও দেখতে হবে বরং না দেখাটাই অন্যায় এবং অমানবিক। যেমন উদাহরণ শারীরিক দুর্বল অসুস্থ হলেও পুরুষের ৪টি স্ত্রী এক সঙ্গে রাখা জায়েজ! যে পুরুষ একজন স্ত্রীর শারীরিক খোরাক দিতে অক্ষম অপারদর্শী! চাহিদা মিটাতে পারে না, এমন অক্ষম ইনভ্যালিড, সেই পুরুষের ৪টি স্ত্রী রাখার আইন, মানে ৪টি স্ত্রী রাখা জায়েজ, কিভাবে হয়?!
এই জায়েজটা কিভাবে সাব্যস্ত করা হয়? সে তো একজন স্ত্রীর প্রয়োজন অধিকার পূরণ করতে অক্ষম পারে না। চাহিদা মেটাতে পারে না তার উপরে সে আরো কিভাবে রাখে? নিয়মটা কেমন করে এটা হয়?! অধিকার দিলেই হলো! তার স্ত্রীর দৈহিক চাহিদা মেটানো লাগবে, শারীরিক খুদা মিটানো দায়িত্ব পালন করা লাগবে, এই ক্ষেত্রে সে তো কিছুই করতে পারে না। এটার জন্যও তো ঘরে শান্তি রক্ষার স্বার্থে এক আইন প্রণয়ন প্রয়োজন! তাহলে কই সেই আইন?আর সবল সুস্থ নারীর একাধিক স্বামী রাখা নিষেধ!
স্বামী দুর্বল অক্ষম ইনভেলিড হলেও অত্যাধিক শক্তিশালী সুস্থ সবল স্ত্রীকে ওই একটাই স্বামী রাখতে হবে! নতুবা সুস্থ সবল স্বামী নিতে হলে, অশ্লীল অমানবিক হয়ে নিষ্ঠুরের মতো, পূর্বের দুর্বল স্বামীকে লাথি দিয়ে, স্বামী গুরুজনকে অপমান করে, অপবাদ দিয়ে, তালাক দিয়ে, দিতে হবে!! এটা কেমন অমানবিক কাজ? স্নেহময় সংসার স্নেহশীষ সন্তান তাদের ফেলে রেখে চলে যেতে হবে, সবল আর একটা পুরুষের কাছে!! অসুস্থ অক্ষম বেকার নিজতেজ তেজহীন ইনভেলিড অসহায় নিঃস্ব স্বামীকে ত্যাগ করে! নিষ্ঠুর কলঙ্ক মাথায় নিয়ে, নিষ্পাপ সন্তান ফেলে, শুধু মাত্র স্বামীর অক্ষমতার দোষে একজন শিশুর মাকে নির্মম নিষ্ঠুর সেজে, স্বাবলম্বী সুন্দর স্ত্রীকে নিষ্ঠুর সেজে, স্বামীকে তালাক দিয়ে সব ফেলে চলে যেতে হবে!?
এই নিয়মটা কে বানিয়েছিলো!? পুরুষের নিষ্ঠুর হতে হবে না। স্ত্রী অসুস্থ অক্ষম হলে তার উপরেই তাকে রেখে নতুন স্ত্রী আনতে পারবে। সন্তান হারাতে হবে না সংসার হারাতে হবে না সব থাকবে নতুন স্ত্রী আনতে পারবে। আর ওই ক্ষেত্রে নারীর নিষ্ঠুর হতে হবে। হৃদয়হীন হতে হবে পাষন্ড হতে হবে! কয়জন নারীকে সাক্ষী রেখে, এই নিয়মটা পাশ করা হয়েছিলো?! কয়জন নারী এই নিয়মে মতামত দিয়েছিলো, এইগুলো আসলে জানতে চাইলেও নিষ্ঠুর অত্যাচারী পুরুষ সমাজ, নারীকেই দোষী করে দোষ ধরে! নারীকে ধর্ম বিদ্বেষী বলে! জীবন যুদ্ধের সাথে, শারীরিক চাহিদার সাথে ধর্মকে জড়িয়ে দেওয়া, ধর্মের তুলনা করা, কিন্তু পুরুষের বেলায় ধর্ম পুরুষের সব সাপোর্ট করে। দৈহিক মানসিক জীবন-মৃত্যুর অন্বেষণ এই সমস্ত দৈনন্দিন চাহিদার সাথে ধর্মের হিসাব শুধুমাত্র নারীর ক্ষেত্রে!
কিন্তু জানা তো দরকার এত বড় নিষ্ঠুর ভয়ংকর অমানবিক পাষ- নিয়ম এবং খারাপ কলঙ্কিত নিয়ম, শুধুমাত্র নারীর উপরে সাবমিট! তার কিছুই না জেনে মেনে নিতে হবে! নারী সম্প্রদায়ের? এই প্রশ্ন সব নারীরই মনে আসে! এবং জবাব চাই। হয়তো সমাজের জুলুম অত্যাচারের ভয়ে প্রকাশ করে না কিন্তু মনে তো ঠিকই এই প্রশ্ন আসে। প্রশ্ন আসবে না কেন আসতেই তো হবে কারণ নারী তো পাগল নয়। রক্ত মাংসে গড়া সম্পূর্ণ মানুষ! পাগলম্যান হলে পাগল হলে তাহলে প্রশ্ন আসতো না। বললাম তো বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিলেই তো হবে না। চাপাতে হলেও সেই বুঝা বহন করতে পারবে কিনা, সেটাও কিন্তু সজ্ঞানে যাচাই করার বিষয়। নারী-পুরুষের বিষয়ে সেটা কি যাচাই করা হয়েছে এবং নারীর থেকে কি সেই পারমিশন অনুমতি নেওয়া হয়েছে? যে পার্লামেন্ট থেকে পাস করা হয়েছিল, সেই পার্লামেন্টে কোন কোন নারী ছিলো, তাদের সই স্বাক্ষর কোথায়? ব্যক্তিগতভাবে বড় বউয়ের পারমিশন নয়।
ওটা তো বড় বউ জুলুমের ভয়ে অত্যাচারের ভয়ে সমাজের মান সম্মান রক্ষার্থে ব্যক্তিগতভাবে অনুমতি দিয়ে দেয় মনের বিপক্ষে। কোন নারী কোন স্ত্রী মন থেকে স্বামীকে তার উপরে আরো স্ত্রী আনার অনুমতি দেয় না! কিন্তু এই যে চারটি বিয়ে করতে পারবে ইত্যাদি ইত্যাদি এই সমস্ত সমষ্টিগত নারীর অন্তরের প্রাণের দাবি। নারী জাতির পারমিশন গবেষণা বিশ্লেষণ সাপেক্ষ বিচারের বিষয়। যা পারদর্শিতার সাথেই সংশ্লিষ্ট!? এই যে যেমন দেশের কিছু রোডে নারীর জন্য গোলাপী বাস, নারীদের দেয়া হয়েছে। বাসের বিলকুল স্থানে সব নারীর পরিচালনায় এটা চলছে। এটা নারীদের পারদর্শিতা যোগ্যতা অনুসারে অনুমতি সাপেক্ষ করা হয়েছে।
পুরুষের একক সিদ্ধান্তে নারীর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি নিশ্চয়। এই রকমই তো নারী বিষয়ক সব সেক্টর হওয়া উচিত। নারীরা পারবে কিনা সেই অনুমতি সেই পরামর্শ সেই যাচাই-বাছাই এবং সেভাবে বাজেট সেগুলোও কিন্তু ঠিকই করে নিয়ে, তারপরে দেয়া হয়েছে। এইভাবে আজকের সমাজেই নয়, পূর্ব থেকেও নারীরা নবাব রাজা বাদশা জমিদার হয়েছে। হয়েছে মেম্বর চেয়ারম্যান মেয়র এমপি প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী। ম্যাজিস্ট্রেট ডাক্তার পাইলট উকিল জজ ব্যারিস্টার। পুলিশ দারোগা মেজর। বিজ্ঞানী লেখক কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক সম্পাদক প্রচ্ছদ শিল্পী কণ্ঠশিল্পী প্রযোজক পরিচালক সচিব উপদেষ্টা স্পিকার সব সেক্টর জয় করেছে। চাপিয়ে দিতে হয় নাই। নারীরা নিজেরাই নিজ যোগ্যতায় সেগুলোকে জয় করেছে। যাপিত জীবনের সান্নিধ্য নারী-পুরুষ ক্ষেত্রেও বাস্তবায়ন এভাবেই তো করা উচিত। সেটাই হলো আসল চুক্তিপত্র। অনুমানে কোন কিছু যেমন জব্দ হয় না তেমন বিশ্বাসযোগ্য নয়, ঘাপলা থাকে।
অশান্তি মনোমালিন্য থাকে কষ্ট থাকে। অন্যায় অত্যাচার জুলুম সবই থাকে। জীবন শান্তিময় করতে উভয় পক্ষকে উভয়পক্ষ মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে শান্তি শৃঙ্খলায় সম্মান বজায় রাখতে হয়। তাহলে সেই বিশ্বাসটাই হয় খাটি বিশ্বাস। ঘাপলা এবং ভুয়া ভেজাল এর ফলন ভালো কিছু হতে পারে না? একক এবং উভয়ের ভিতর পার্থক্য থাকে এই জিনিস বাস্তবায়ন করা ঠিক নয়। সংসার জীবন সুন্দর করতে হলে, এই জন্যই নারী-পুরুষ উভয়ের সমান মর্যাদা মান বজায় থাকবে। সম মর্যাদায় উভয় জীবনের কথা, জীবন বৃত্তান্ত বিষয়ে মিলনের ব্যাপারে এটা নারীর সঙ্গে বসে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত পাকা থাকবে। এবং সেভাবেই মতামত নেয়া প্রয়োজন ছিল।
অন্যায় হয়েছে সেটা না করে। ওটাই ভয়ঙ্কর রূপ নেই আর সেটা ভিতরে থাকে উপরে প্রকাশ পাই না। শুধু বায়ু নয়, সব ক্ষেত্রে ভিতরে চাপিয়ে রাখার থেকে, প্রকাশ পাওয়াই স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে ভালো। বলতে চাই না তবু একটা উদাহরণে সামান্য বলি, কোন একজন লেখকের ‘শোধ’ নামক একটা উপন্যাসে দারুন একটা প্রতিশোধের কাহিনী দেখেছিলো। কিন্তু ভরি ভরি সমাজে পৃথিবীতে দেশে এমন প্রতিশোধ মূলক কাহিনী আছে।
আছে পুরুষের দোষেই আছে । নারী নিজেকে শান্তনা দেয়ার জন্যই এটা করে দৃষ্টির অগোচরে। সবাই করে আমি তা বলছি না তবে করে। এই সমাজে কিছু কাজ আছে করলে দোষ নাই বললে দোষ। নারী হিংস্র এবং প্রতিবাদী। নারী জুলুমবাজি নয়। তবে নারী হিংস্র জাতি এইটা বলতে কোন দ্বিধা নাই। সত্যি লুকানো বেশি অন্যায়। মহান আল্লাহ নারীকে হিংস্র জাতির রূপে বানিয়েছে । নারী কিন্তু কেউ কারো সুখ সইতে পারে না। হিংস্র এক, মমতাময়ী আরেক। যে রাধে এসে চুলও বাধে। অতএব নারী মায়ের জাতি মমতাময়ী তাতে সন্দেহ নাই। তার মানে এই নয় হিংস্র জাতি নয়। আর এটাও তো মহান আল্লাহ তাদেরকে এরূপ করে বানিয়েছেন। নারীদের উপরে দোষ নাই। স্বভাব চরিত্রেও দোষ নাই। দোষ আছে পুরুষের স্বভাব চরিত্রের খুবই প্রচন্ড আকারে এবং সেটা দোষ পুরুষের প্রকাশ্যে আছে। নারীরা শুধু নিজেদের বাঁচাবার দায়ে যেটা করে এবং সেইটার টেকআপ দেয়।
বাঁচার জন্যই প্রতিশোধ নেই এই আর কি। গোপনে ভীতরে ভিতরে প্রতিশোধ নিয়ে নেয়। কারণ সমাজে তো গোপনে দোষ করলে দোষ নাই। ভিতরে গোপনে জানলেও দোষ নাই। প্রকাশ্যে জন সম্মুখীন হলে এবং বললে দোষ। পুরুষ প্রকাশ্যে জুলুমবাজি অত্যাচারী হয় এবং অন্যায় কর্মকা- চালায় সেটা তাদের রাইট আছে বলে। কিন্তু সমাজ সংসারে নারী এটা কতখানি সইতে পারলো , মেনে নিতে পারলো, পুরুষের অন্যায়ের ভারসাম্য বইতে পারলো, এদিকে পুরুষ নারীর মূল্যায়ন করে না। তোয়াককার ধার ধারে না। পাত্তা দেয় না। শুধু পুরুষের মন ইনজয় পূরণের ধান্দায় থাকে পুরুষ সম্প্রদায়।
তখনই নারীও বিকল্প পথ তৈরি রাখে শুধুমাত্র বাচার স্বার্থে। জিদ এবং প্রতিশোধের আগুন দুই গুণ বৃদ্ধি পায়, তার হিংস্র আক্রমন দুই গুন বেড়ে যায় পুরুষের উপর। অথচ গবোধ পুরুষ সেটা বোঝে না। এই জন্যই সমসাময়িক সম অধিকার থাকা দরকার তাতে হিংস্র জাতিটা পুরাপুরি ভদ্রতাই ফিরতে পারে। মানুষের সাথে মানুষের বসবাস অতি শৃঙ্খলার সাথে সৃষ্টি হতে পারে। হিংস্র জানোয়ারের সাথে আরেক হিংস্র জানোয়ারের বসবাস এটা অনেক কঠিন এমনকি আদৌ সম্ভব না। তাই যতই একক সিদ্ধান্তে জুলুম করে পুরুষ শাসিত সমাজ সৃষ্টি করে রাখুক পুরুষ প্রকাশ্যে। ওটা আর এখন পূর্বের মত নাই। ভিতরে গোপনে নারী শাসিত সমাজ পুরুষের উপর আক্রমণ করে ঠিকই কঠিনভাবে ভর করে আছে।
সাদামাটা পুরুষ অথবা গাঁধা পুরুষ হয়তো সেটা বোঝে না। যেখানে মা পুরুষের আল্লাহর পরেই গুরুত্বপূর্ণ একজন। মায়ের স্থান মহান আল্লাহই সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর পরেই মায়ের স্থান! পুরুষের বেহেশত মায়ের পায়ের তলে বলা যায়! সেখানে প্রেমময় স্ত্রী, অর্ধাঙ্গিনী নারী ওটাতেই বাধা দেয় ! প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। স্বামীর বেহেশতে হানা দেয়! ভয়ংকর আক্রমণ করে বাধা দেয় মানে স্বামীর বেহেস্ত পাবার পথ ঘাট আটকিয়ে দেয়। বাধাপ্রাপ্ত করে! তাহলে পুরুষের বোঝা উচিত, অত সাদামাটা হলে কি চলে? এই জন্যই গাধা বলেছি! আমি নারীর পক্ষের মানুষ বটে কিন্তু সত্যি বলতেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে পুরুষের পক্ষ যতই নেই কিন্তু নারী সংশ্লিষ্ট রয়েছে। কারণ মা মানে তিনিও নারী।
আমি মায়ের স্বার্থ নিয়ে কথা বলছি। স্ত্রীর কাছে পুরুষ যখন ঠকে, বা নারী তাই পুরুষ সেটাকে তাচ্ছিল্য ভাবে। যেখানে তারও পরকাল জড়িত তবুও! তাইতো আমি পুরুষকে গাধা বলেছি! কারণ সে তার নিজের বেহেশ্তকেও সংরক্ষণ করতে পারেনা স্ত্রীর কাছে হেরে যাওয়ার কারণে! বিষয়টার মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ ব্যাখ্যা পুরুষ কি। কখনো করে দেখেছে! এই ধরনের বিষয়ের কমেন্টে পুরুষ কি সেই ব্যাখ্যা করে! তাহলে পুরুষের পুরুষ শাসিত সমাজ কোথায়??
নারী শাসিত সমাজই চলছে আপডেট কলি যুগে। ইলেকট্রনিক্স ইন্টারনেট যুগে। কিন্তু বোঝার ভুলে পুরুষ ধরেই রেখেছে, এটা পুরুষশাসিত সমাজ। নো এখন বর্তমান মাতা পিতার বৃদ্ধাশ্রমে রাখা মানে, পিতা মাতার নিজ হাতে সাজানো গোছানো বাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া মানে, একজন পুত্র পিতার নিজ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া মানে, বৃদ্ধাশ্রমে রাখা মানে, এটাই কিন্তু নারী সমাজ। বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধি করে ব্যবসাবাজরা ব্যবসা করছে। এই ব্যবসার মধ্যেই পুরুষরা হারছে। মানে ব্যবসিকরা ব্যবসা করছে।
কিন্তু এটা কিন্তু সহজ কথা নয়। চিরকাল চির সত্যি, মানুষ সব সময় তার নিজ আশ্রয়ে নিজ ঠিকানায় থেকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই। চিরচিনা ঘটি-বাটিতে পানি খেয়েই মৃত্যুবরণ করতে চাই। স্থায়িত্ব বাড়ি চিরশান্তির আশ্রয়ে যাইতে চাই। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষকে মরতে হচ্ছে হাসপাতালে। অচেনা অজানা মানুষের হাতের স্পর্শে শেষ জীবনের শেষ কয়দিন যাপিত জীবনের আশ্রয় নিয়ে, থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। আর এটা জাস্ট শুধু নারীর কারণে। যা ৫০ বা ১০০ বছর পূর্বে কল্পনার ধারে কাছেও ছিলো না। শুধু আমার নয়, সৃজনশীল এবং সচেতন মহল্লা, ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি সুস্থ স্বাভাবিক ত্রাণ মানুষ অনেকেরই মনে হয়।
তারা বলছে এটাই আজকের যুগের নারী শাসিত সমাজ। পুরুষের কবজা রাখার, ঠকানোর প্রতিবাদে ঠকাবার, ব্যাহত করার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাহত করার সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমি বলছি না কেউ বলছে না ইথারের গতিতে চারিদিক থেকে বাতাসে যেন ভেসে আসছে, নারী শাসিত সমাজ জিন্দাবাদ। তারপরও বলবো, কোন কিছুই বেশি বেশি ভালো নয়, সেটা বাড়াবাড়ি। সবকিছুতেই স্বাভাবিক যেটা, সেটাই বাস্তব। সেটাই ভালো।