মসজিদের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, অস্ত্র উদ্ধারের পরও মামলা নিয়ে প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

‎
‎জাতির সংবাদ ডটকম।।

‎বরিশালের উজিরপুরে মসজিদের আর্থিক হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মো. আসাদুল হক গোমস্তা ও তার ভাতিজা আজিম গোমস্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গড়িয়া নতুনহাট বাজার এলাকায় গড়িয়া নতুনহাট বাইতুল আমান জামে মসজিদের হিসাব নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল গোমস্তার কাছে হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আসাদুল হক গোমস্তার পরিবার।
‎
‎ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ সময় নাসির গোমস্তা, মৃদুল গোমস্তা ও বাইজিদ গোমস্তাসহ কয়েকজন আসাদুল হক গোমস্তা ও আজিম গোমস্তার ওপর হামলা চালান। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
‎
‎ঘটনার খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হলে উজিরপুর থানা থেকে এসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায় বলে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি। তাদের অভিযোগ, ওই সময় অভিযান চালিয়ে বাইজিদ গোমস্তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
‎
‎এ ঘটনায় আসাদুল হক গোমস্তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম ওই রাতেই উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
‎
‎অন্যদিকে, ৪ এপ্রিল নজরুল গোমস্তার পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয় এবং ওই মামলায় আসাদুল হক গোমস্তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, এর আগেও ১ ফেব্রুয়ারি রাতে আসাদুল হক গোমস্তার বাড়িতে হামলার উদ্দেশ্যে কয়েকজন গিয়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও করেছেন তারা।
‎
‎অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে প্রশ্ন
‎ঘটনার সময় পুলিশ একটি চাইনিজ অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ দাবি করলেও পরবর্তী মামলা ও তদন্তসংক্রান্ত নথিতে ওই অস্ত্রের বিষয়টি যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
‎
‎তাদের প্রশ্ন, অস্ত্রটি যদি উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোথায় রাখা হয়েছে, আদালতে জব্দ তালিকাসহ জমা দেওয়া হয়েছে কি না এবং পরবর্তী সময়ে এর কী হয়েছে?
‎
‎এদিকে, বাইজিদ গোমস্তার ফেসবুক আইডি থেকে চাইনিজ অস্ত্রের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। বিষয়টি যাচাই করে অস্ত্রটির সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এরই মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট এবং বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে; আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বর্তমান অবস্থান, হামলার প্রকৃত ঘটনা এবং উভয় পক্ষের দায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।