ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম
সহযোগী অধ্যাপক, শাবিপ্রবি
বাংলাদেশের কোমলমতি শিশুদের জন্য শিশুবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে আগামী প্রজন্ম দূষিত পরিবেশের নানা ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও গ্রাম ও শহরকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ এবং সুস্থ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরিবেশ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে মানুষের জীবন নানা রোগব্যাধির ঝুঁকিতে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশের সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে দিন দিন হাওর-বিলসহ বিভিন্ন জলাভূমি সংকুচিত হচ্ছে। হাওর, বিল, নদী-নালা ও পাহাড়সহ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হবে। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস ও দূষণের শিকার হলে আমাদের আলো-বাতাসসহ সামগ্রিক পরিবেশ দূষিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, দরগাগেইট-এ বাংলাদেশ পরিবেশ গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী বলেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক সিলেটের ডাকের সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিবেশ রক্ষাকে একটি সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর করতে সচেতনতা সৃষ্টি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রোটারিয়ান এম এ এম সজিব।
বাংলাদেশ পরিবেশ গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদীর (সাংবাদিক) অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহমদ মাসুম (লেখক ও সাংবাদিক) অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও মো. আজিজুজুর রহমান জয়নাল; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জসিম উদ্দিন; সহ-অর্থ সম্পাদক মিলাক আহমদ; প্রচার সম্পাদক মো. শাহিন আলম; তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাহিনূর রহমান; সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহমদ; সমাজসেবা সম্পাদক মো. সুহেব আহমদ; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হোছাইন মো. মোহাম্মদ আলমগীর; পরিবেশ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম; দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. লায়েক মিয়া প্রমুখ।