পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: শ্রীমঙ্গলের ভৈরবগঞ্জে ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল উদাহরণ

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

 

মীর মাসুম আহমেদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতার খবর সামনে আসে, তখন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজার তুলে ধরছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য চিত্র। এখানে মাত্র ২০ গজ দূরত্বে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ভৈরব মন্দির ও মাজদিহি জামে মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদে আজান ও নামাজের সময় মন্দিরের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। একইভাবে পূজা ও কীর্তনের সময়ও বজায় থাকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য। নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতের মধ্যে কুশল বিনিময় এখানকার পরিচিত দৃশ্য। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভৈরবগঞ্জে পাশাপাশি অবস্থিত মসজিদ ও মন্দির কেবল দুটি উপাসনালয় নয়; এগুলো সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা বহন করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। কেউ কারও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করেন না।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাদশা কাজল মিয়া বলেন, ‘একই স্থানে পাশাপাশি দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের সুন্দর উদাহরণ। এই সম্প্রীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভিন্নতা যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অন্তরায় নয়, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ভৈরবগঞ্জের এই মসজিদ ও মন্দির। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে এখানে প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে সম্প্রীতির বার্তা ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।